১৫/০১/২০২৬, ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

৬ ডিসেম্বর, রাজনগর, বড়লেখা ও কুলাউড়া শত্রুমুক্ত

আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে শত্রু মুক্ত হয়ে আকাশে বিজয়ের পতাকা উড়ে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর, বড়লেখা ও কুলাউড়া উপজেলায়।

বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও, খলাগ্রামে পাকহানাদার বাহিনী নিরপরাধ মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ রাজনগর পোর্টিয়াস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাক সেনারা মুক্তিযোদ্ধের শেষ সময়ে অপারেশন শুরু করে উদনা চা বাগানে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা শমসেরনগর অবস্থান করেন। সেখান থেকে ৪ ডিসেম্বর ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল মৌলভীবাজার হয়ে রাজনগরে পৌঁছান। তারা উদনা চা-বাগানে অবস্থানরত পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর ওপর আক্রমণের চুড়ান্ত প্রস্তুতি নেন। ৫ ডিসেম্বর প্রচন্ড শীতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রবেশ করেন উদনা চা-বাগানে এবং আক্রমণ করেন হানাদারদের উপর। টানা যুদ্ধের পর ৬ ডিসেম্বর ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি সেনারা পালাতে শুরু করে, এদিন মুক্তিযোদ্ধারা সক্ষম হন রাজনগরকে হানাদার মুক্ত করতে। শ্বাসরুদ্ধকর এক দীর্ঘবিভীষিকা থেকে রাজনগরের মানুষ এদিন নিশ্বাস নেন মুক্ত বাতাসের, গ্রামছাড়া মানুষ আবার আসতে শুরু করে গ্রামে। লাল সবুজের বিজয় পতাকা উড়ে রাজনগরের ক্লাব প্রাঙ্গণে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখাবাসী জেগে উঠেছিল রণ-হুঙ্কারে। সেসময় প্রায় ৩২৫টি গ্রাম যেন প্রতিরোধের এক একটি দুর্গে পরিণত হয়। যুদ্ধের শুরুতেই বড়লেখার বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বড়লেখাবাসী। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল হানাদাররা বড়লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়, এদিন ভোরবেলায় পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় বড়লেখা। পরে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

একই সঙ্গে এই দিনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলাও পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হয়। কুলাউড়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ও সর্বশেষ অপারেশন হয় গাজীপুর চা বাগানে। নভেম্বরের শেষ দিকে গাজীপুর মুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ৫ ডিসেম্বর গাজীপুর চা বাগান এলাকা মুক্ত হয়। চার নম্বর সেক্টরের অধীনে থাকা মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে এদিন পাকবাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়, ঐ দিনই সন্ধ্যার দিকে সম্মিলিত বাহিনী কুলাউড়ায় পৌঁছে, এ রাতেই সব পাকিস্তানী সৈন্য সড়ক পথে কুলউড়া ত্যাগ করে। পরে মুক্তিযোদ্ধারা ডাকবাংলো মাঠে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে কুলাউড়াকে মুক্ত ঘোষনা করেন।

পড়ুন- পটুয়াখালীতে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা

দেখুন- ধোঁয়াশায় কৌতুহলী জাতি, বিএনপিতে হচ্ছেটা কী? | 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন