১৫/০১/২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চা বিক্রি করে স্বপ্নবাজ তরুণের মাসে আয় লাখ টাকা

শীতের হিমেল বাতাস নামলেই আখাউড়ার মোগড়াবাজারের পরিবেশ যেন একটু বদলে যায়। বিকেল বেলায় বাজারের রেলগেইট যেতেই চোখে পড়ে ছোট্ট এক দোকান— টি হাউজ। কাছে যেতেই নাকে আসে দুধের ঘন মিষ্টি গন্ধ, সামনে দেখা যায় লম্বা লাইন। কেউ কাপ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার পুরা রুটি দুধ চায়ে চুবিয়ে খেতে ব্যস্ত— যেন ছোট্ট এক আনন্দঘন আড্ডাস্থল।

বিজ্ঞাপন

এই দোকানটিকেই বদলে দিয়েছেন গাঙভাঙা গ্রামের তরুণ আরাফাত। তার তৈরি মলাই দুধ চা, হরলিক্স চা আর পুরা রুটির অনন্য স্বাদ এখন মোগড়াবাজারের বিশেষ পরিচয়। আর এই পরিচয়ই তাঁকে এনে দিয়েছে মাসে লাখ টাকার বেশি আয়।

ঢাকায় পড়ালেখার সময় থেকেই নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন আরাফাত। ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা, ক্যাফে— সমবয়সীদের নানা উদ্যোগ তাকে অনুপ্রাণিত করত।
“মনের ভেতর তখনই নড়াচড়া শুরু হয়— কিছু একটা নিজে করবো,” । “ভাবলাম, আমার শক্তি তো হাতে। তাই গ্রামে ফিরে ছোট্ট করে চায়ের দোকান দেই।”

শুরুর দিনগুলো ছিল কঠিন। দিনে কয়েকজন ক্রেতা এলেই খুশি হতেন। কিন্তু পরিশ্রম ও স্বাদের জাদুতে পরিস্থিতি বদলে যায় দ্রুত। এখন বিকেল নামলেই দোকানের সামনে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ আসছেন বিশেষ দুধ চায়ের স্বাদ নিতে। তার দোকানে চা খেতে আসা ইব্রাহিম নামের এক চাকরিজীবী জানান “শুনেছিলাম এখানকার চা আলাদা। আজ এসে বুঝলাম, সত্যিই এর স্বাদ অসাধারণ।” স্থানীয় যুবক শাহীন জানন “মলাই দুধ চা একবার খেলেই আসক্তি ধরে যায়।”

লিটন চন্দ্র বড়ুয়া নামের আরেক যুবক জানান “বন্ধুদের সঙ্গে অনেক শুনে এসেছি। সত্যিই চায়ের স্বাদ মন ভরিয়ে দেয়।”

চায়ের কাপে ভাসমান মলাইয়ের মতোই আরাফাতের স্বপ্নও উঠছে ধীরে ধীরে। ভবিষ্যতে দোকান সম্প্রসারণ ও নতুন আইটেম যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছেন। তার এই সাফল্যর পথে সহযোগিতা করছেন তার ছোট ভাইটি।

মোগড়াবাজারের এই ছোট দোকান আজ শুধু ব্যবসা নয়— তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। প্রমাণ যে, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে হাতের কাজও বদলে দিতে পারে জীবনের মানচিত্র।

পড়ুন- ৬ ডিসেম্বর, রাজনগর, বড়লেখা ও কুলাউড়া শত্রুমুক্ত

দেখুন- ‘ফ্যাসিবাদীরা বিদায় নিয়েছে, ফ্যাসিবাদ এখনো বিদায় নেয়নি’ 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন