বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিমানযাত্রার ধকল সামলানোর অবস্থায় নেই, তাই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকলেও আপাতত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নেয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জানা যায়, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে পরিবার, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অস্থিরতা কাটেনি বলেই চিকিৎসকরা এখনও বিদেশে নেয়ার উপযোগী স্থিতিশীল অবস্থা ঘোষণা করতে পারছেন না।
হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শরীরে আরও কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এসব কারণে বিদেশে স্থানান্তরের মতো শারীরিক স্থিতিশীলতা এখনো অর্জিত হয়নি।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এলে তিনি যেতে পারবেন কি না- এমন প্রশ্নে মেডিকেল বোর্ড জানায়, যুক্তরাজ্য, চীন এবং বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বেগম খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা পরিচালনা করছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) লন্ডনের হিথ্রো থেকে রওনা দিয়ে পরদিন শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান ডা. জুবাইদা রহমান। সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজ নেন।
এদিনই শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার এন্ডোস্কপি সম্পন্ন হয় বলে সন্ধ্যায় জানায় মেডিকেল বোর্ড। একই সঙ্গে তার পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে বলেও তারা নিশ্চিত করে।
পড়ুন : খালেদা জিয়ার জন্য মঙ্গলবার ঢাকায় আসার অনুমতি চেয়েছে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স


