১০/০২/২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ সম্মাননা পেলেন মোহসেনা বেগম

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কানাইপুকুর পাখি কলোনীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহসেনা বেগম বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।
গত শনিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বন ভবনে তাকে এই সম্মাননা তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাণীসম্পদ বিষয়ক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় সভায় বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল আলোচনায় উঠে আসে তরুণদের ইতিবাচক মনোভাব, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় তরুণদের ইতিবাচক মনোভাব অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসে যারা অর্থনৈতিক যুক্তি দেখায়, তাদের প্রতিরোধে সঠিক তথ্য ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ-প্রকৃতি-জীবজগত-সবকিছু মিলেই পরিবেশ। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ আমাদের জীবজগতের প্রতি সহমর্মিতা ও সংরক্ষণশীল আচরণের শিক্ষা দেয়।

বিলুপ্তপ্রায় শামুকখোল পাখির নিরাপদ আবাসস্থল তৈরিতে এবং দীর্ঘদিনের নিরলস সংরক্ষণ কার্যক্রমে মোহসেনা বেগম বিশেষভাবে আলোচিত। তার উদ্যোগে কানাইপুকুর এলাকাটি এখন দেশে শামুকখোল পাখির সবচেয়ে নিরাপদ কলোনীগুলোর একটি।

উপদেষ্টা তার কাজের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিটি জেলায় যদি একজন প্রতিনিধিত্বশীল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী উঠে আসেন, তবে জাতীয়ভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বড় পরিবর্তন সম্ভব।

এসময় আগামী বছর ৬৪ জেলায় ৬৪ জন বন্যপ্রাণী কর্মীকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় নতুন ইউনিট গঠনের অনুমোদন এবং উদ্ধার কার্যক্রমে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরেন।

মোহসেনা বেগমের এ সম্মাননা শুধু তার ব্যক্তিগত সফলতা নয়, কানাইপুকুর পাখি কলোনীর জন্যও এক অনন্য স্বীকৃতি। প্রকৃতি, পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় তার নিরলস প্রচেষ্টা দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক ছগীর আহমেদ, জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী রেজা খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন জালাল উদ্দিন সরদারসহ আরও অনেকে।

মোহসেনা বেগমের এ অর্জনে এলাকাবাসী ও প্রকৃতি প্রেমীরা গর্বিত।

পড়ুন- টাকা না দিলে কেন্দুয়া প্রাণিসম্পদ দপ্তরে মিলে না সেবা

দেখুন- ইসির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন