বিজ্ঞাপন

দিনাজপুর চাঞ্চল্যকর ময়না হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ময়না বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বাসার বিদ্যুৎতের বিল ও সুদের টাকার জের ধরে নিজ স্ত্রীর গলায় রশি দিয়ে হত্যার পর রেললাইনের উপর ফেলে রাখে ঘাতক স্বামীসহ ৩ জন। পিবিআইয়ের হাতে আটক স্বামীসহ ৩ জন আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী প্রদান করেছে আসামীরা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ।

গ্রেফতারকৃত হলেন নিহত গৃহবধূ ময়না বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম, তার ভায়রা আব্দুস সালাম ও চাচাত ভাই রুবেল।

ব্রিফিংয়ে মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের দিনাজপুর-পঞ্চগড় রেললাইনের ধার থেকে গৃহবধূ ময়না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। এসময় পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে ময়না বেগমের জখম, গলায় পেচানো দড়ি ও রেললাইনের স্লাপারের সাথে বাধা দেখে সন্দেহ হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা লাল মিয়া বাদী হয়ে ২ নভেম্বর জামাইসহ অজ্ঞাত ৪/৫জনের বিরুদ্ধে রেলওয়ে জিআরপি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের হওয়ার পর থেকে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পিবিআই স্বপ্রনোদিত হয়ে মামলাটি অধিগ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত মামলাটি পিবিআই তদন্তের জন্য দেন।

তিনি আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালে নিহতের স্বামীসহ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করে। পরে তারা ময়না বেগমকে হত্যার পর রেল লাইনে মরদেহ ফেলে রাখে। জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানায় যে, ময়না বেগম স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন জনের নিকট হতে ধার কর্জ ও সুদের টাকা নেওয়ার জের ধরে তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া-বিবাদ চলতে থাকে। যার কারনে আসামী জাহিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে একাধিকবার মারপিট করে। ঘটনার দিন ২১ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ময়না বেগমকে বিদ্যুত বিলের জন্য ২০০০ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে বলে অন্যথায় তাকে মেরে ফেলবে বলে রাগ দেখিয়ে বাড়ী থেকে বাহিরে বের হয়ে যায়। পরে সেই টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় বিকেলে জাহিদুল ময়না বেগমকে মারপিট করে। এসময় ময়না বেগম রাগ করে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাতে পৌনে ১০টায় ঘটনাস্থলে আসামীরা ময়না বেগমকে গলায় দড়ি পেচিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা চালানোর জন্য রেললাইনের উপর ফেলে রাখে।

গ্রেফতারকৃতরা আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে বলে তিনি জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মোঃ মোস্তাফিজ, মোঃ মহসীন আলী, প্রদীপ কুমার ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন: মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন