নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম–ঢাকা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলার মুক্তদিবসের ইতিহাস স্মরণ করা হয় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। তার আগে ৯ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় নেত্রকোনা জেলা। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরাম–ঢাকা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও কলামিস্ট এবং জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা মোশতাক আহমেদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফ খান, সংগঠক ও ব্যবসায়ী জান্নাতুল বাকের খান নন্দন, এবং নেত্রকোণা সাংবাদিক ফোরাম–ঢাকা’র সদস্যবৃন্দ।
শেষ পর্যায়ে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান ফোরামের সভাপতি রফিক মুহাম্মদ। পরে সকলের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা নেত্রকোনা শহরে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগের রাত থেকেই বিএডিসি কৃষিফার্ম এলাকায় অ্যাম্বুশ পেতে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। টাইগার খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সিদ্দিক আহমদের নেতৃত্বে ভোরে শুরু হওয়া তুমুল যুদ্ধে শহীদ হন আবু খাঁ, আব্দুস সাত্তার, আব্দুর রশিদসহ আরও অনেকে।
পড়ুন : নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হল সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের জন্যে ডিজিটাল অধিকার বিষয়ক কর্মশালা


