আজ ১১ ডিসেম্বর, মুন্সিগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় পদ্মা, মেঘনা, ইছামতি ও ধলেশ্বরী বিধৌত মুন্সিগঞ্জ জেলা। দিনটি উপলক্ষে জেলা জুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়েছে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম বীরত্বগাঁথা।
মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনামতে, একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে ২৭ মার্চ ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা মিলে সিরাজদিখান থানার পুলিশ ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর ২৯ মার্চ হরগঙ্গা কলেজের শহীদ মিনারে ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয় মানচিত্রখচিত লাল-সবুজের পতাকা।
৯ মে পাকিস্তানি সৈন্য মুন্সিগঞ্জে প্রবেশ করলে শুরু হয় হত্যা ও নির্যাতনের বিভীষিকা।
গজারিয়ার ফুলদী নদীর তীরে ওইদিন হত্যা করা হয় ৩৬০ জেলে ও কৃষককে। এরপর গালিমপুর, কমলগঞ্জ, কামারখোলা, গোয়ালীমান্দ্রা, দক্ষিণ পাইকসার, সৈয়দপুর, টঙ্গিবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় দখলের যুদ্ধ। বাড়ৈখালী, শেখেরনগর, শিবরামপুর, গজারিয়া ও পঞ্চসারে মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন।
নভেম্বরের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে—১৪ নভেম্বর টঙ্গীবাড়ী, ১৫ নভেম্বর লৌহজং, ১৭ নভেম্বর শ্রীনগর ও ২০ নভেম্বর সিরাজদিখান মুক্ত হয়। ৯ ডিসেম্বর মুক্ত হয় গজারিয়া থানা।
৪ ডিসেম্বর সদর উপজেলার রতনপুর গ্রামে সংঘটিত হয় চূড়ান্ত যুদ্ধ। পাক সেনাদের তিনটি বড় বাহিনীর বিপরীতে সহস্রাধিক মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। এতে ১৪-১৫ জন স্থানীয় নিরীহ মানুষ শহীদ হন এবং নিহত হয় তিন পাক সেনা। মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধে পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে হরগঙ্গা কলেজে স্থাপিত ক্যাম্পে আটকে পড়ে। শেষে ১১ ডিসেম্বর ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা ক্যাম্প গুটিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্ত হয় মুন্সিগঞ্জ। ভোরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জেলার আকাশ-বাতাস।
হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংবলিত স্মৃতি ফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, সকাল ৯টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে জেলার সব মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দিবসটি উদযাপনে স্বাধীনতার চেতনায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
পড়ুন: খুব শিগগির তারেক রহমান দেশে আসবেন: মির্জা ফখরুল
আর/


