আজ কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় কুষ্টিয়া। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ২২টি ছোট-বড় সম্মুখ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা কুষ্টিয়াকে স্বাধীন করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক(ডিসি) ইকবাল হোসেন। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিটের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ভোরে পাক হানাদাররা প্রথম আক্রমণ চালায় কুষ্টিয়ায়। মুক্তিবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধে ১ এপ্রিল রাতে পাক সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হলেও পরে টানা বিমান হামলা ও নতুন শক্তি নিয়ে ১৬ দিন পর আবার কুষ্টিয়া দখল করে নেয় তারা। পুরো মুক্তিযুদ্ধ জুড়েই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ চলে।
এরমধ্যে ২৬ নভেম্বর জেলার দৌলতপুরের ধর্মদহ ব্যাংগাড়ি মাঠে ঘটে বৃহত্তম সম্মুখ যুদ্ধ। ৯ ডিসেম্বর শহর ছাড়া কুষ্টিয়ার সব এলাকা শত্রু মুক্ত হয়। শহরমুক্ত করতে শুরু হয় চূড়ান্ত লড়াই, যেখানে উভয় পক্ষেই বহু মানুষ প্রাণ হারান। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর আসে কুষ্টিয়ার বিজয়ের দিন-হানাদারমুক্ত কুষ্টিয়া পায় স্বাধীনতার স্বাদ। এদিকে কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন রয়েছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক(ডিসি) ইকবাল হোসেন বলেন, শুধু ফুল দেয়া বা একটি দিনকে স্মরণ করার মাধ্যমে আমরা মনে করি মুক্তিটা মিলে যায়,আমাদের স্বাধীনতা আসে। আসলে এটা কোনভাবেই কাঙ্খিত না। আমি মনে করি-এটি সারা বছরের জন্য হওয়া উচিত। আমাদের সব সময় ধারণ করা উচিত মুক্তির বিষয়টি চিহৃিত। এটি কেন একটি দিনে সীমাবদ্ধ থাকবে। মুক্তি তো সীমাবদ্ধ কোন বিষয় না।
পড়ুন: মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: গৃহকর্মী আয়েশা ৬ দিন ও তার স্বামী ৩ দিনের রিমান্ডে
আর/


