দেখছেন রোগী, করছেন প্রেসক্রিপশন, একই সাথে মোবাইলে খেলছেন গেমও। কুষ্টিয়ার এক চিকিৎসকের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
তবে ওই চিকিৎসকের দাবি, কোন রোগী না থাকাই মোবাইল ফোন হাতে নিয়েছিলেন তিনি। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসককে তলব করে ব্যবস্থা নেবেন।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১১৯ নং কক্ষের। ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, শামরিন সুলতানা নামে এক চিকিৎসক দেখছেন রোগী, করছেন প্রেসক্রিপশন, একই সাথে মোবাইলে খেলছেন গেমও। ভিডিওতে চিকিৎসা নিতে আসা একজন জিজ্ঞেস করছেন আপনি গেম খেলছেন ? উত্তরে এই চিকিৎসক বলছেন সমস্যা কি, আমি গেমও খেলছি আপনার রোগীও দেখছি। এমন ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে। দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
রাবেয়া বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, এর আগেও শুনেছি ডাক্তাররা রোগী না দেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কথা সত্য। আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের কিছু মনে হয় না।
আব্দুল কাদের নামে আরও একজন বলেন, এটা অপরাধ। মোবাইল দেখতে তো আর বাঁধা নেই। কিন্তু আমাদের দাবি, চিকিৎসকরা যেন অফিস টাইম শেষ করে বাড়িতে গিয়ে গেম খেলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শামরিন সুলতানা বলেন, ভিডিও ধারণকারী কোন আইন সঙ্গত কাজ করেননি। ওই সময় কোন রোগী না থাকায় মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়েছিলাম। তিনি দাবি করেন ভিডিওটি এআই দিয়ে এডিট করে ছাড়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীর জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসককে তলব করবেন তারা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে নেবেন ব্যবস্থাও।
পড়ুন: তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে উপজেলা-থানায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সিদ্ধান্ত
আর/


