সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের কাপনা জালালিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নারী শিক্ষক মোছাঃ জয়নব বিবির উপর নির্মম নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, মারধর ও তার পরিবারের উপর হামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ নিয়োগে বাধা দেওয়ায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও বেতন-ভাতা বন্ধ রেখে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী জয়নব বিবি জানান, তিনি অত্র মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী এবং একসময় ভারপ্রাপ্ত সুপার ছিলেন। ১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে তৎকালীন গর্ভনিং বডির সভাপতি শহিদ মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটিকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে আব্দুল লতিফকে সহকারী সুপার এবং সেলিম মিয়াকে ল্যাব অপারেটর পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন। এই নিয়োগের বিরোধিতা করায় ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে তার সরকারি ও বেসরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পরীক্ষা ডিউটির সম্মানি বিতরণের সময় জয়নব বিবি তার বকেয়া বেতন ও সম্মানি চাইলে আব্দুল লতিফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে,শ্লীলতাহানি করে এবং জোর করে একটি রুমে তালাবদ্ধ করে মারধর করেন। পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রুমে আটকে রাখা হয়।
এ খবর পেয়ে তার পিতা, যিনি মাদ্রাসার সাবেক সুপার, তার ভাই ও স্বামী ঘটনাস্থলে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তিনজনকেই মারধর করে পৃথক একটি রুমে আটকে রাখা হয়। এ সময় মাদ্রাসা মাঠে থাকা তাদের দুটি মোটরসাইকেল—হিরো এবং জিকসার এসএফ—ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা।
ঘটনার পর জয়নব বিবি ও তার পরিবারকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে থানা পুলিশ গিয়ে জয়নব বিবি, তার পিতা ও ভাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তারা দুই দিন চিকিৎসা সেবা নেন।ভুক্তভোগী জয়নব বিবি সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষ বিচার, বন্ধ থাকা বেতন-ভাতা দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা এবং পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দুটির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় সলুকাবাদ ইউনিয়নসহ পুরো বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতর এ ধরনের সহিংসতা ও অমানবিক আচরণের ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পড়ুন : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও খতমে কোরআন মাহফিল


