মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে (পূর্বপাড়া) মেহগনি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চরমে। চাঁদপুর গ্রামের আলী জিন্না (৩৫) নামে এক ব্যাক্তির ক্রয়কৃত জায়গার উপর থাকা শতাধিক মেহগনি গাছের মধ্যে দুটি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী আলী জিন্নাহ অভিযোগ করে বলেন, শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তার চাচা আনিচুর রহমান বাবু তার বাড়ির পাশে থাকা ক্রয়কৃত জমি থেকে ৩০টির বেশি মেহগনিগাছ বিক্রি করে কেটে নেওয়ার জন্য লোকজন পাঠায়। দুটি গাছ কাটার পরে আমরা জানতে পারি তিনি জোর করে গাছ কাটছেন। পরপরই পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। এরপর ক্ষিপ্ত হয় তার চাচা আনিচুর রহমান বাবু এবং এলাকার কিছু লোককে ম্যানেজ করে গাছগুলো কেটে ফেলার হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, তার চাচা আনিসুর বাবু খুলনায় থাকেন। খুলনায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। সেখানকার সেই ক্ষমতা এখন গ্রামে এসে দেখানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও মাঝে মধ্যে গ্রামে আসেন তিনি। আনিচুর রহমানের ভাই ও বোন, সহ শরিকদের জমি ওই মেহগনি গাছ সহ এক বছর আগে কিনেছেন বলে দাবি করেন আলী জিন্নাহ। এখন সেই জমি থেকে গাছগুলো বিক্রি করে জোর করে কেটে নিতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায় ভুক্তভোগী আলী জিন্নাহ সহ তার পরিবার।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মা ফিরোজা বেগম ও ভাই ফরিদুল ইসলাম জানান, আজ দুপুরে বাবু তাদের জমি থেকে মেহগনি গাছ কেটে নিচ্ছিলেন। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। তারা বলেন, এক বছর আগে তারা বাবুর শরিকদের কাছ থেকে গাছসহ জমি কিনেছেন। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুর রহমান বাবু জানান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার ভাতিজা। বিশ বছর আগে ওই মেহগনি গাছগুলো জমিতে লাগিয়েছিলেন তিনি নিজেই। প্রায় ৬০ শতাংশের জমিতে তৈরি বাগানের কিছু গাছ আমি বিক্রি করেছি। তাই আজ ব্যাপারি তার কেনাগাছ গুলো কাটতে আসলে বাধা দেয় আলী জিন্নাহ পরিবার। তার এখন দাবি করছে যে ওই জমি তারা কিনেছে। কিন্তু আমরা তা আজও জানিনা। তারা এতদিন জমি ক্রয়ের কথা না বলে আজ যখন বড়গাছ গুলো কাটতে গেছি তখন তারা বাধা দিচ্ছে। পুলিশ এসেছিল তারা রোববার উভয় পক্ষে শালিশ করে মিমাংশা করার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ বিগত দিনের ঝামেলায় এখনও এলাকায় সামাজিক রাজনীতি নিয়ে সমস্যা চলে আসছে। এখন এই পরিবারের জমিজমা ও গাছ কাটা নিয়ে যেনো কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয় এজন্য প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন জমি ক্রয় করেছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। আবার অনেকেই বলছেন জমি কেনার বিষয়ে জানেন না তারা।
এসব ঘটনায় চাঁদপুর এলাকার বিট পুলিশের দায়িত্বে থাকা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা পুলিশ সদস্য এএসআই মিলন হোসেন জানান, চাঁদপুর গ্রামে চাচা ও ভাতিজার মধ্যে মেহগনি গাছ কাটা নিয়ে সংঘাতের আশংকা রয়েছে। তখনই আমরা ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখি দুটি গাছে করাত লাগানো হয়েছে এবং গাছের অংশ কাটা হচ্ছে। যিনি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন তিনি হলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ চাচা আনিসুর রহমান। তিনি দাবি করেন গাছ গুলো তিনি নিজেই লাগিয়েছেন তাদের জমিতে।
অন্য দিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তার পরিবার দাবি করেন মেহগনি বাগানসহ ওই জমি কিনে নিয়েছেন তারা আনিসুর রহমান বাবুর ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া শরিকদের কাছ থেকে। উভয় পক্ষে এই দাবির কারণে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সমাস্যা সমাধানের জন্য দুপক্ষকেই আগামীকাল রোববার মিমাংশার জন্য থানায় ডাকা হয়েছে। সেখানে যাদের যা প্রমানাদি আছে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি। আপাতত দুই পরিবারের সংঘাত এড়াতে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে।
পড়ুন- সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম বিএনপি ইতালির কমিটি ঘোষণা
দেখুন- হাদি হ/ত্যা/চেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার |


