ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছে টিপরা মোথা পার্টির যুব শাখা ইয়ুথ টিপরা ফেডারেশন (ওয়াইটিএফ)। গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির কয়েকশ সদস্য হাইকমিশনের কিছু দূরে জড়ো হয়ে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই কার্যালয়ের ২০০ মিটার আগেই ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। সেখানেই বিক্ষোভ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভকারীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে স্লোগান দেন এবং সেভেন সিস্টার্স নিয়ে বক্তব্যের নিন্দা জানান। সমাবেশে ওয়াইটিএফ সভাপতি সুরজ দেববর্মা বলেন, এই বিক্ষোভ কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডার চেয়ে বেশি জনসাধারণের অনুভূতির প্রতিফলন। তার অভিযোগ, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে বক্তব্য রাখার সময় হাইকমিশনকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনারের সামনে থেকে আমরা তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ কীভাবে তৈরি হয়েছিল।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেববর্মা বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে যে সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলো আসছে তা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের নেতাদের দ্বারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলের বিষয়ে বারবার করা অভিযোগের কথা উল্লেখ করে এই ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিপজ্জনক। তারা বারবার দাবি করেছে, তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখল করবে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভারতের অবদান সত্ত্বেও আজ তারা আমাদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করছে।
বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বে কোনো সমুদ্রসৈকত নেই। নিকটতম সমুদ্রসৈকত হলো কক্সবাজার। যদি তারা আমাদের বাধ্য করে, আমরা এর নাম পরিবর্তন করে ‘গ্রেটার ত্রিপরাল্যান্ড সমুদ্রসৈকত’ রাখব। হুঁশিয়ারি দিয়ে দেববর্মা বলেন, ভারত সরকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ তাদের ভূমি রক্ষার অনুমতি চাইবে। ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের জমি রক্ষা করতে প্রস্তুত। আমরা চুপ করে থাকব না। তার দাবি, সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ বড় আকারের সহিংসতার সাক্ষী হতে পারে।
পড়ুন: ওসমান হাদিকে হত্যা: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি
দেখুন: কুষ্টিয়ার শহরবাসীর গলার কাঁটা দশ রেলগেট
ইম/


