ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাতে গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
শুক্রবার (১৯ ডিনেস্বর) রাতে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে শহীদ হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদির স্বপ্ন ছিল মেধা-মনন ও জ্ঞানের শক্তিতে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। তার স্বপ্নের ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে নিয়মতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী যেন স্যাবোটাজ, সহিংসতা বা উসকানির মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আন্দোলনকে কলুষিত করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’
এতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় ডাকসু তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। স্বাধীন গণমাধ্যম রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, সেই অন্ধকার সংস্কৃতিতে বাংলাদেশ আর ফিরে যেতে পারে না। একই সঙ্গে হাইকমিশন কার্যালয় ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনারও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ডাকসু। ধর্ম অবমাননার বিচার আইন ও আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পড়ুন: সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশ করলো হাজার হাজার ছাত্র-জনতা
আর/


