আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। জেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানান আলোচনার অবসান ঘটিয়ে প্রতিটি আসনে তিন দলের তিন প্রার্থী নিশ্চিত হওয়ায় এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও নতুন সমীকরণ ও নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে চলছে জোর আলোচনা।
তিন আসনেই মনোনয়ন ঘোষণার পর বিএনপি,জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। প্রার্থীরা এখন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করছেন। নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিন আসনেই কঠিন লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটারদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মাদারীপুর–-১ (শিবচর):
১৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শিবচর উপজেলাই মাদারীপুর-১ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তার। কয়েক বছর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। তার প্রয়াত স্বামী নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী শিবচরের পরিচিত বিএনপি নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে সরোয়ার হোসেনকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আকরাম হোসেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন,“শিবচরের মানুষের ভালোবাসা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। বিভেদ ভুলে দলের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা, নারী উন্নয়ন ও অবহেলিত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি।”
জামায়ত ইসলামী প্রার্থী সরোয়ার হোসেন জানান, “ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণ নিয়ে রাজনীতি করি। শিবচরের মানুষ আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছেন, তার প্রতিদান উন্নয়ন ও সেবার মাধ্যমে দিতে চাই।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আকরাম হোসেন জানান, “ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবতা ও ন্যায্য সমাজ কাঠামো গঠনের দায়িত্ব নিয়েই মানুষের পাশে থাকতে চাই। শিবচরের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারলে সেটাই হবে আমার সাফল্য।”
মাদারীপুর-২ (সদরের একাংশ এবং রাজৈর):
মাদারীপুর সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং রাজৈর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে গঠিত মাদারীপুর-২ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠের রাজনীতি করে আসা জাহানদার আলী জাহান সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ আসনে জামায়াত থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান, আর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি।
বিএনপি প্রার্থী জাহান্দার আলী জাহান জানান,“ আমি ৪৬ বছর ধরে বিএনপির সাথে আছি। মনোনয়ন প্রাপ্তি আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বহু বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের ন্যায্য অধিকার ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।”
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সোবহান জানান, “সততা ও নীতির পথে থেকে মানুষের সেবা করাই আমার রাজনীতি। এ অঞ্চলের সমস্যা সমাধান ও শান্তি পূর্ণ সমাজ গঠনে কাজ করতে চাই।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি বলেন,“ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গঠন ও মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই। রাজনীতি আমার কাছে দায়িত্ব, সুযোগ নয়।”
মাদারীপুর-৩ (কালকিনি, ডাসার এবং সদরের একাংশ):
মাদারীপুর সদর উপজেলার একাংশ, কালকিনি ও ডাসার উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩আসন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-গণশিক্ষা সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক তৎপরতার জন্য তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়।
জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম।
বিএনপি প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন জানান, “শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়ন এইসব লক্ষ্য নিয়ে মাদারীপুর-৩ আসনের মানুষের পাশে থাকতে চাই। তাদের আস্থা অর্জনই আমার প্রথম লক্ষ্য।”
জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান,“সততা ও শান্তির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জনকল্যাণমুখী কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আজিজুল ইসলাম জানান,“সেবা, ন্যায় ও মানবতার সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই। মানুষের উন্নয়নই আমার সব প্রচেষ্টার কেন্দ্র বিন্দু।”
পড়ুন- কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক ও ভারতীয় পন্য আটক
দেখুন- গাজীপুরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে দুদকের অভিযান


