আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (সদর উপজেলা ও নলছিটি) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।
মনোনয়ন পত্র সংগ্রহকালে ইলেন ভুট্টোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহেব হোসেন, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আককাস সিকদার, শহর বিএনপির সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক নাসিমুল ইসলাম, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিন, যুবদলের আহ্বায়ক শামিম তালুকদার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিচুর রহমান খান হেলাল, উপজেলা বিএনপির সহ- সভাপতি শহিদুল হক সহিদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজু, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান বাবু,সিঃ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল, দলের বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
ঝালকাঠি-২ আসনটি সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলা রাজনীতিতে এ আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে। গত ৩ নভেম্বর বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঝালকাঠি-২ আসনের রাজনীতিতে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো নতুন মুখ নন। প্রয়াত স্বামী জুলফিকার আলী ভুট্টোর হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে পথচলা শুরু। জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন এ অঞ্চলের জাতীয় পার্টির জনপ্রিয় নেতা। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের ২৯ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ইলেন ভুট্টো আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমির হোসেন আমুকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
প্রায় এক যুগ ধরে সরাসরি রাজনীতির আলোচনায় কিছুটা কম থাকলেও এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখনো রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। রাজনৈতিকভাবে তিনি শান্ত, পরিমিত ও মার্জিত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অনেকেই তাঁকে ‘ভদ্র রাজনীতিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নারী নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে প্রেক্ষাপটে ঝালকাঠি-২ আসনে ইলেন ভুট্টোর প্রার্থিতাকে নারী নেতৃত্বের পুনরুত্থান হিসেবেও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো বলেন, দল আমাকে যে আস্থা ও সম্মান দেখিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সাম্প্রতিক সময়ে আমি সরাসরি রাজনীতিতে খুব সক্রিয় ছিলাম না, কথাটা সত্য নয়। আমি কখনো দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম না। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি এবং সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। আমার লক্ষ্য জনগণের আস্থা অর্জন করা। আমি চাই আমার এলাকার মানুষ নিরাপদে ঘুমাক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ভয় ছাড়া জীবন যাপন করুক। নিজে কোনো অন্যায় করব না, কাউকে অন্যায় করতেও দেব না।
পড়ুন- প্রাণ-প্রকৃতির ভারসাম্য মানুষের কারণেই হারিয়ে গেছে, সভায় বক্তারা


