নীরবতা কখনো কখনো ইতিহাসের সবচেয়ে শক্ত ভাষা হয়ে ওঠে। জামালপুরের বুকে অবস্থিত আশেক মাহমুদ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আশেক মাহমুদ তালুকদারের সমাধিস্থলটিও তেমনি এক নীরব ইতিহাস—যেখানে শায়িত আছেন একজন মানুষ, যাঁর স্বপ্ন, চিন্তা ও কর্ম আজও একটি জনপদের শিক্ষার ভিত গড়ে রেখেছে।
১৮৭০ সালে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালুকদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব আশেক মাহমুদ তালুকদার। পিতা শাহ মাহমুদ তালুকদার ও মাতা গুলজান বিবির স্নেহ ও আদর্শে বেড়ে ওঠা এই মনীষী শৈশব থেকেই উপলব্ধি করেছিলেন—শিক্ষাই পারে একটি সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যেতে। সেই উপলব্ধিই পরবর্তীকালে তাঁর জীবনের মূল দর্শনে পরিণত হয়।
এক সময়ের অবহেলিত এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতায় আলহাজ্ব আশেক মাহমুদ তালুকদার নিজস্ব চিন্তা, সাহস ও আত্মত্যাগ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আশেক মাহমুদ কলেজ। কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হয়ে ওঠে জামালপুর অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। গ্রাম-গঞ্জের অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার সাহস পায়।
সময় গড়িয়েছে। বহু প্রজন্ম এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। কিন্তু কলেজের সাফল্যের পেছনে যে নিঃস্বার্থ মানুষের গল্প, তা আজও সমানভাবে শ্রদ্ধার দাবি রাখে। তাঁর সমাধিস্থলটি যেন সেই গল্পের নীরব ধারক—যেখানে দাঁড়ালে অনুভব করা যায় এক জীবনের সাধনা ও আত্মত্যাগ।
১৩ আগস্ট ১৯৬০ সালে দীর্ঘ কর্মময় জীবনের ইতি টানেন আলহাজ্ব আশেক মাহমুদ তালুকদার। তাঁর প্রয়াণের পর কেটে গেছে বহু বছর, তবু তাঁর চিন্তা ও আদর্শ ম্লান হয়নি। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুধীজনেরা মনে করেন, তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা এক দূরদর্শী মানুষ—যিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও মানবিকতার একটি স্থায়ী ভিত্তি রেখে গেছেন।
আজ যখন আশেক মাহমুদ কলেজ তার গৌরবময় পথচলা অব্যাহত রেখেছে, তখন প্রতিষ্ঠাতার সমাধিস্থলটি কেবল একটি কবরস্থান নয়—এটি একটি ঐতিহ্য, একটি ইতিহাস এবং একটি অনুপ্রেরণার নাম। এই নীরব স্থাপনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার আদর্শ থেকে যায়—প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাতে।
পড়ুন: তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার হওয়ার নথি
দেখুন: একাধিক দেশে অ/স্ত্র কারখানা গড়ে তুলেছে ইরান!
ইম/


