২৪/০২/২০২৬, ২৩:২৩ অপরাহ্ণ
25.1 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ২৩:২৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সাত কলেজের সংকট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় একই মোড়কে

রাজধানীর সাত কলেজ নিয়ে নয়, সম্পূর্ণ নতুন ও পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকবে পৃথক ক্যাম্পাস। অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই মূল ক্যাম্পাসে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম। আপাতত রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ভাড়া ভবনে কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ জন্য উপযুক্ত ভবন খোঁজা হচ্ছে। ঢাকার আলোচিত সাত কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ (অ্যাটাচড কলেজ) হিসেবে পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

সাত কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রদান, সনদ দেওয়াসহ সব কার্যক্রম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনেই পরিচালিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে। সাতটির মধ্যে পাঁচটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক রয়েছে। এই পাঁচটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক থাকবে। 

এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খসড়া অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

সাত কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি দাবি ও আন্দোলনের মুখে সব পক্ষের মন রক্ষা করে সরকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর তারিখও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি সাত কলেজ ক্যাম্পাসে প্রথমবর্ষে ভর্তি শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে। 

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিন ইউনিটে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো ১০ হাজার ১৯৪ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ হাজার ৩৮৮ জন ভর্তি নিশ্চয়ন সম্পন্ন করেছেন বলে জানানো হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষ পরিচালনার জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েল ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাত কলেজে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা এর আগে এই শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তারা কলেজের শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার তাদের কোনো এখতিয়ার নেই। 

তবে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে কলেজগুলোর বর্তমান কাঠামো ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পাচ্ছে। বিসিএস শিক্ষকরাই সাত কলেজে কর্মরত থাকবেন। এতে নতুন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু নিয়ে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মো. শাহজাহান মিয়া।

গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনের সড়ক ও শাহবাগ মোড় পাল্টাপাল্টি অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শাহবাগে অবস্থান নেওয়াদের দাবি ছিল দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় 

অধ্যাদেশ জারি করা। শাহবাগে অবস্থান নেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছিল, কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করা। সরকারের আশ্বাসে সেই সময় ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব পক্ষের আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। 

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে এক সভা হয়। শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনসহ সাত মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতিনিধি, ইউজিসি, সাত কলেজের অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। সভায় প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের ওপর পাওয়া সব মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। আরও একটি সভা করে অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হবে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

সভায় অংশ নেওয়া সাত কলেজের প্রশাসক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস সমকালকে বলেন, সভায় দ্বিতীয় খসড়ার ওপর আলোচনা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে শিগগিরই চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

তিনি জানান, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাত কলেজ হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযুক্ত কলেজ। এটাকে আমরা এফিলিয়েটিং (অধিভুক্ত) কলেজ বলছি না, বলছি সংযুক্ত কলেজ। কেন্দ্রীয়ভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে। মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবেন। কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে। ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজে মেয়েরাই পড়বেন। যেসব কলেজে কো-এডুকেশন আছে, সেখানে বর্তমানের মতোই ছেলেমেয়েরা সবাই পড়বেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান শিক্ষকরাই এসব কলেজে পাঠদান করবেন। তারা চাইলে দুভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতেও যোগদান করার সুযোগ পাবেন। এক. সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে, দুই. প্রেষণে। তিনি বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করলে সাত কলেজের পড়াশোনার মান বাড়বে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় উইং থেকে জানা গেছে, প্রথম খসড়ার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত অধ্যাদেশের দ্বিতীয় খসড়া সমকালের হাতে এসেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো, একাডেমিক কার্যক্রম ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের সরকারি সাত কলেজের অবকাঠামো ব্যবহার করেই দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে মূল ক্যাম্পাস পৃথক হবে।

শিক্ষাদান পদ্ধতি প্রসঙ্গে দ্বিতীয় খসড়ায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো পরিচালনা করবে। শিক্ষাদান হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে– ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্লাস ভার্চুয়ালি এবং সব পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে। স্নাতক পর্যায়ে প্রথম চার সেমিস্টারে সাধারণ বিষয় পড়ানো হবে, পরবর্তী চার সেমিস্টারে ডিসিপ্লিনভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা শর্তসাপেক্ষে প্রথম চার সেমিস্টার শেষে নিজ ক্যাম্পাসের ভেতরে ডিসিপ্লিন পরিবর্তনের সুযোগও পাবেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশি-বিদেশি সব যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং সিন্ডিকেট নির্ধারিত শর্তে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।

পড়ুন:
সজল আলীর বিয়ের গুঞ্জন, ভক্তদের উচ্ছ্বাস

দেখুন: দিনে ৪০টি হাঁসের মাংস বিক্রি করেন মডেল মিম! 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন