ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামের নবাই বিশ্বাসের ছেলে। শনিবার তিনি ঝিনাইদহ সদর থেকে কালীগঞ্জে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বিএনপি রাজনীতি করেছি। এই আসনে বিএনপির তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু কাউকে দেওয়া হয়নি। যাকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সে বিএনপির কেউ না। দলের নেতাকর্মীদের দাবিতে তিনি আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
এদিকে রাশেদ খানকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ায় কান ধরে ও নাকে খত দিয়ে বিএনপির রাজনীতি ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছে যুবদল নেতাসহ দুইজন। এছাড়াও কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেছে নেতাকর্মীরা। রাশেদ খানের মনোনয়ন বাতিল না হলে গণ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
ঝিনাইদহ-৪ আসনটি কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও সদরের ৪টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২০টি ভোটকেন্দ্রে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬১ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৬ হাজার, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ ও হিজরা ভোটার রয়েছে ৫ জন।
উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাহাবুদ্দীন লাল্টু-আজিজুল বারী হেলাল কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ফিরোজ। পরে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ঝিনাইদহের এই কৃতি সন্তান বর্তমানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
পড়ুন- দেশে কোরাআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল


