বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের চেয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর পেশিশক্তি প্রদর্শনই মুখ্য হয়ে উঠেছে। শিবির চায়, দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় জয় ধরে রাখতে, আর ছাত্রদলের চ্যালেঞ্জ পুরান ঢাকার শক্তিশালী ইউনিটটিতে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখার। শিবির, ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি সমর্থিত তিন প্যানেলের বিরুদ্ধেই নগদ অর্থ বিতরণ, খাবার বিতরণ, বিভিন্ন পার্টি আয়োজনে সহায়তা করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আর এসব কিছুই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সামনে ঘটলেও তারা নির্বিকার।
স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী উম্মে মাবুদা সমকালকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। এটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক। তবে সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, এটি সংসদ নির্বাচনের আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর পেশিশক্তির মহড়া।’
ওই প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন উপলক্ষে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে। ক্যাম্পাসে ও আশপাশের রেস্টুরেন্টে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে খাবার পরিবেশন হচ্ছে। জেলা কল্যাণ ও বিভাগগুলো হঠাৎ করেই বারবি-কিউ পার্টিসহ বিভিন্ন উৎসব করছে। তাদের অর্থ সহায়তা করছে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো। প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ ক্ষেত্রে অসহায়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল প্রতি রাতে পোগোজ স্কুল ও ক্যাম্পাসের শহীদ সাজিদ ভবনসংলগ্ন দ্বিতীয় গেটে বারবি-কিউ পার্টি করছে। সেখানে খাসির তেহারিসহ নানা আয়োজন। ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা ছাত্রী হলে গত শুক্রবার রাতে মেধাবৃত্তির নামে শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের নতুন মাত্রায় যোগ করেছে শিবির ও ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলসহ অন্যরা। শিবির সমর্থিত প্যানেল ছাত্রী হলে খাবার বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রশক্তি জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন জামাল ভূঁইয়াকে ক্যাম্পাসে এনে প্রচারণা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে খাদিজাতুল কুবরা বলেন, ‘আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম মেধাবৃত্তি বা শিক্ষা বৃত্তি দেব।’ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন খানাম বলেন, তোরণ নির্মাণ, প্যান্ডেল বা ক্যাম্প স্থাপন ও আলোকসজ্জাকরণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে আচরণবিধিতে। ভোটারদের কোনো উপঢৌকন দেওয়া যাবে না। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।
তবে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, বিভিন্ন জেলা কল্যাণসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট প্রোগ্রামের আয়োজন করে এবং সব প্রার্থীর মতোই আমরাও সেখানে ছুটে যাই। হলে টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।’
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল অহরহ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। তারা বৃত্তির নামে হলে হলে টাকা দিচ্ছে ছাত্রীদের। ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাওয়ানো হচ্ছে।
ছাত্রশক্তি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, পূর্ব ঘোষিত স্পোর্টস কার্নিভালে জামাল ভূঁইয়ার আসার কথা ছিল। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমা কাকলী।
৩৯ কেন্দ্রের ১৭৮ বুথে হবে ভোট গ্রহণ। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে বুথ থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
পড়ুন: ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হচ্ছে যেসব সিম কার্ড
দেখুন: মার্কিন নৌবাহিনীকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা এখন চীনের হাতে! |
ইম/


