হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে নোয়াখালী। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর শীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার শহর ও গ্রামের জনজীবন। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ।
সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার শহর থেকে গ্রাম, কোথা সূর্রে দেখা মেলেনি। দিনভর ঘন কুয়াশায় ডাকা জনপদে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন মানুষ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিন্মআয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেশি দেখা গেছে।
জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন ফুটপাতে দেখা গেছে শীতার্ত মানুষের কষ্টের চিত্র। পাতলা কাপড় জড়িয়ে রাত কাটাচ্ছেন অনেকে। শীত থেকে বাঁচতে কেউ জ্বালাচ্ছেন আগুন, কেউ আবার কাগজ কিংবা পলিথিনে নিজেকে ঢেকে রাখছেন।
মাইজদী রেলস্টেশন থাকা একাধিক ছিন্নমূল ব্যক্তি বলেন, বাড়ি নেই, ঘর নেই, দিনে কোনোমতে কাজ করি, ‘ রাতে স্টেশনে রাত কাটায়। গত কয়েক দিন শীত বাড়ায় শরীর টেকে না। একটা কম্বল পেলে অনেক উপকার হতো।
একই চিত্র গ্রামাঞ্চলেও। জেলার সদর, সুবর্ণচর, কবিরহাট, সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শীতের প্রকোপ আরও বেশি। খোলা মাঠে কাজ করা রিক্সাচালক, দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না নিয়মিত। এতে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে পড়েছেন চরম সংকটে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে- জেলায় গত চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড়ে ১৪ ডিগ্রি সে. এর নিচে ছিল। আগামী পাঁচ দিনও জেলায় মেঘলা আকাশসহ ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্র অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়।
তীব্র শীতে ছিন্নমূল ও নিন্মআয়ের মানুষের জন্য সরকারিভাবে পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা শীত বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল ও নিন্মআয়ের মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শীতে জুবুথুবু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।
শীতে জবুথবু নোয়াখালীর লাখ লাখ ছিন্নমূল ও নিন্মআয়ের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারিউদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পড়ুন- দেশের মানুষ ভোটের অপেক্ষায় ছিল, এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর : নজরুল ইসলাম মঞ্জু
দেখুন- নির্বাচনী ব্যয় ঘিরে কালো টাকার ঝুঁকি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা


