১৪/০১/২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শীতে কাবু আখাউড়াবাসী

হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার জনজীবন। কয়েক দিন ধরেই জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।

বিজ্ঞাপন


সকালের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। আখাউড়া–ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া–কসবা সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক জায়গায় কুয়াশার কারণে সামনে কয়েক হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যায়নি। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চালকেরা।


শীতের তীব্রতায় আখাউড়ার বিভিন্ন হাট-বাজারে সকালবেলা ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকেরা কাজের খোঁজে বের হলেও অনেকেই পর্যাপ্ত কাজ পাননি। পৌর শহরের রেলওয়ে স্টেশন এলাকা ও সড়কবাজারে দেখা গেছে, শীত নিবারণের জন্য মানুষ খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।
আখাউড়া পৌর এলাকার বাগানবাড়ির দিনমজুর রফিক মিয়া বলেন, “এত শীতে কাজে বের হইতে খুব কষ্ট হয়। কাজও কম, আবার ঠান্ডায় শরীর টিকানোই দায়।” একই এলাকার গৃহবধূ নাজমা আক্তার বলেন, “ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় আছে।”


উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে শীতের প্রকোপ আরও বেশি। বিশেষ করে যাঁদের ঘরে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই, তাঁদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক বয়স্ক মানুষ ও শিশু সারাদিন ঘরের ভেতরই অবস্থান করছেন। শীতজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা।


আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। তিনি সবাইকে গরম কাপড় পরা, কুয়াশার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে শীত মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বলসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে রাতে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপশী রাবেয়া নিজ হাতে রেলওয়ে স্টেশন ও মাজার শরীফ এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপশী রাবেয়া বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে কম্বল পাঠানো হয়েছে।

পড়ুন- খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাঙ্গাবালী বিএনপি কার্যালয় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ

দেখুন- ‘আওয়ামী লীগের শোক প্রকাশ তামাশা’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন