নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১৪ হাজার ৯৮৫ টন ই-বর্জ্য উপাদান আমদানি হয়েছে। একই সময়ে দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ এবং দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এমন চিত্র উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করে টিআইবি।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকার অপ্রাতিষ্ঠানিক ই-বর্জ্য হটস্পটগুলো থেকে বছরে প্রায় এক হাজার ১৭৩ টন ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে দেশে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বীকৃত ই-বর্জ্য সংগ্রহকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ফলে ৯৭ শতাংশ ই-বর্জ্যই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা হচ্ছে।
টিআইবির অনলাইন জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭৫ ভোক্তার মধ্যে ৮৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক পণ্য কীভাবে নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়, সে বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি। ৭২ শতাংশ মানুষ তাদের অচল ইলেকট্রনিক পণ্য বাসায় ফেলে রাখছেন। আর ১৫ শতাংশ ভাঙাড়িওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু থাকা ‘বাইব্যাক অফার’ সম্পর্কেও ভোক্তাদের বড় অংশ অজ্ঞ। জরিপে ৭৩ শতাংশ ভোক্তা জানিয়েছেন, তারা কখনও এ অফার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ই-বর্জ্য খাতে সুশাসনের ঘাটতি স্পষ্ট। পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে, আর যে আইন আছে, তার প্রয়োগে আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ই-বর্জ্য খাতে এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে।
টিআইবি বলছে, ই-বর্জ্য একদিকে যেমন বড় স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি, অন্যদিকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে এটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার খাতও হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকায় সংগৃহীত ই-বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বছরে প্রায় ৩১ টন তামা উৎপাদন সম্ভব, যার বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি।
গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে শুধু সোলার প্যানেল থেকেই বাংলাদেশে আনুমানিক ৫৫ লাখ টন ই-বর্জ্য তৈরি হবে। এ ছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়ের মধ্যে দেশে ১৬ হাজার ৭২৪টি বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানি হয়েছে। কিন্তু এসবের আকার, গঠন ও উপাদান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় ভবিষ্যৎ ই-বর্জ্যের সঠিক প্রাক্কলন করা যাচ্ছে না। ই-বর্জ্য বিধিমালায় এখনও বৈদ্যুতিক গাড়ি, সোলার প্যানেল, ব্যাটারিচালিত খেলনা, ড্রোনের মতো পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি যানবাহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক আবদুল্লাহ জাহিদ ওসমানী ও মো. নাবিল হক।
পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের আশপাশে সিগারেট বিক্রি করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
দেখুন: অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ নিয়ে যা বললো ডিএমপি
ইম/


