হাতিয়া উপজেলার মাইজদী বাজার বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে আজ এক বিশেষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র কোরআন খতম ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সকাল থেকেই মাইজদী বাজার এলাকায় স্থানীয় হাফেজ ও ওলামায়ে কেরামদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পবিত্র কোরআন খতম শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন তিলাওয়াত শেষে কোরআনুল কারীমের খতম সম্পন্ন করা হয়। এরপর দেশনেত্রীর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন খতমের এই নূরানি পরিবেশের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয় নেত্রীর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে পানাহ চেয়েছি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও জনসমাগম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন স্বপন। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মী এবং এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই দোয়া মাহফিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষও এই শোকাবহ ও দোয়া অনুষ্ঠানে শরিক হন।
বক্তাদের স্মৃতিচারণ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইফতেখার হোসেন স্বপন বলেন:
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় বাতিঘর। তার আপোষহীন নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তার জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করছি।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, এই খতমে কোরআন ও দোয়া অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশনেত্রীর প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া কোরআন খতম শেষে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মোনাজাতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করা হয়।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নিহত ও নির্যাতিতদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি এবং সংকট উত্তরণে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের এক প্রখ্যাত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও দেশের উন্নয়নে তার অনবদ্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


