চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য, ঝরে পড়া ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদরের ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন যাত্রাপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ কাসেম আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী এবং প্যানেল চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক লুৎফর রহমান, নুর ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল মান্নান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌসী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন,“চরাঞ্চলের শিশুরা মেধায় কোনো অংশে পিছিয়ে নেই, পিছিয়ে আছে সুযোগে। শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া মানেই অন্ধকার ভবিষ্যৎ। বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি একটি জাতির সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়।”
তিনি আরও বলেন,“আজ যারা স্কুল ছেড়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসছে, আগামী দিনে তারাই সমাজের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে। শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে চরাঞ্চলে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও প্রতিবন্ধিতা আরও বাড়বে।”
অন্যান্য বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতেই নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। দারিদ্র্য ও সচেতনতার অভাবে অনেক পরিবার অল্প বয়সেই সন্তানদের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এর ফলে চরাঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, বাল্যবিবাহের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে সমাজে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি বাড়ছে। কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লক্ষ এক হাজার ৯৮৯ জন, যার পেছনে বাল্যবিবাহ একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
সংলাপে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার কারণ, নদীপথে যাতায়াতের ঝুঁকি, দারিদ্র্য, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং সামাজিক বাধা সংক্রান্ত নানা সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ ও করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,“শিক্ষাই পারে চরাঞ্চলের অন্ধকার ভাঙতে। সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা এমন সংলাপ আরও নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

