১৪/০১/২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জিয়া উদ্যানে ধামরাইয়ের মাটিতে চিরনিদ্রায় আপসহীন নেত্রী, ইতিহাসে গর্বের অধ্যায় ধামরাইবাসীর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও আবেগঘন অধ্যায় যুক্ত হলো ঢাকার ধামরাইয়ের মাটিকে কেন্দ্র করে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফনে ব্যবহৃত হয়েছে ধামরাইয়ের মাটি—যা ধামরাইবাসীর জন্য এক অনন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার জিয়া উদ্যানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফন কাজে ব্যবহৃত শুকনো ও উপযোগী মাটি ধামরাই উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওইদিন জিয়া উদ্যানে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা এলাকার যুবদলের সক্রিয় কর্মী সাজিবুজ্জামান রুবেলের মালিকানাধীন ‘মেসার্স রুবেল ব্রিকস’ নামের ইটভাটা থেকে ওই শুকনো মাটি সরবরাহ করা হয় এবং রুবেল নিজে তার ইটভাটা থেকে শুকনো ও উপযোগী মাটি ট্রাকে করে জিয়া উদ্যানে পৌছে দেন।

এ বিষয়ে সাজিবুজ্জামান রুবেল বলেন, “৩০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম আমাকে ফোন করে জানান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের জন্য দ্রুত ভালো ও শুকনো মাটির প্রয়োজন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আমি আমার ইটভাটা থেকে একটি ট্রাকে মাটি লোড করে নিজেই জিয়া উদ্যানে পৌঁছে দিয়ে আসি।

তিনি আরও জানান, পথে যাওয়ার সময় আমিনবাজার এলাকায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সার্জেন্ট মাটিবাহী ট্রাক থাকায়, জানতে চাইলে বিষয়টি অবহিত করি। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে রাত আনুমানিক ২টার দিকে জিয়া উদ্যানে পৌঁছানো সম্ভব হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম মাটি গ্রহণ করেন।

সাজিবুজ্জামান রুবেল ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রয়াত এম এ মান্নানের পুত্র। তিনি একজন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে কালামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম কণ্ঠু বলেন, “গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর কবরের জন্য ধামরাইয়ের মাটি ব্যবহার হওয়া শুধু ধামরাইবাসীর জন্য গর্বের বিষয় না এটা ইতিহাসের একটা অধ্যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ কবির বলেন, “তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ শয্যায় ধামরাইয়ের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, এটি আমাদের ধামরাইবাসীর জন্য আজীবনের গর্ব।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “দেশের একজন সফল ও ঐতিহাসিক নেত্রীর দাফনের জন্য উপযুক্ত মাটির প্রয়োজন ছিল। ধামরাইয়ের সাজিবুজ্জামান রুবেল তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর শেষ শয্যায় ধামরাইয়ের মাটি—এ যেন ধামরাইয়ের মানুষের জন্য ইতিহাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে রইল। ধামরাইবাসীর জন্য এটি শুধু একটি সংবাদ নয়, এটি এক চিরস্মরণীয় গর্বের অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে।

পড়ুন- মাদারীপুরে সাতক্ষীরার নষ্ট মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ১৫ জন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন