১০/০২/২০২৬, ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রাঙ্গাবালীতে স্কুলছাত্রী আয়েশা হত্যা হয় বাবার নির্দেশে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া স্কুলছাত্রী আয়েশা মনি হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদার নির্দেশে তার চাচাতো চাচা রুবেল প্যাদা আয়েশাকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের আগে শিশুটিকে রুবেল ধর্ষণ করে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের মূল অভিযুক্ত নিহত আয়েশার চাচাতো চাচা রুবেল প্যাদা (৩৫) ও আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকে (৪৮) সোমবার গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার রুবেল প্যাদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের কুট্টি প্যাদার ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের দুইদিন পর রোববার বেলা ১১ টার দিকে নিজবসত বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ওইদিন সন্ধ্যায় থানা হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরমধ্যে রুবেল প্যাদা হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরদিন সোমবার বিকেল ৩টায় তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের তথ্যমতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রুবেল প্যাদা স্বীকার করেন, নিহত আয়েশার সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে তার বাবা বাবুল প্যাদার নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি আয়েশা জানতে পেরে তার বোন এবং প্রবাসী মাকে বিষয়টি জানান। এতে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। নিজের সম্মান বাঁচাতে বাবুল প্যাদা তার মেয়ে আয়েশাকে মেরে ফেলতে চাচতো ভাই রুবেল প্যাদাকে নির্দেশ দেন। এ জন্য টাকা-পয়সা যা প্রয়োজন হবে, সব দেবেন বাবুল প্যাদা। সে অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাবুল প্যাদার সাহায্য নিয়ে ঘরে ঢুকে আয়েশাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে বস্তাবন্দি করে লাশ রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে যান।

এই স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন ওই আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দোলন হাসান। পরে আদালত রুবেল প্যাদাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল প্যাদা হত্যার আগে আয়েশাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি কেবল হত্যার দায় স্বীকার করেন।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হুকুমের আসামি হিসেবে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান পুলিশ।

এ ঘটনায় সোমবার নিহত আয়েশার বোন সাথী আক্তার বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রুবেল প্যাদাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এ হত্যাকান্ডের জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। যাতে এ ধরণের ঘটনা আর কোনদিন না ঘটে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় থানার পুরো টিম এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করে। প্রযুক্তির সহায়তায় এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মূল আসামি রুবেল প্যাদা ও হুকুমের আসামি বাবুল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেল প্যাদা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদার নির্দেশে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে রান্নাঘরের বারান্দায় রেখে গুমের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া খুনের আগে ধর্ষণের বিষয়টিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন।’

পড়ুন: নাজিরপুরে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ মাছ হত্যার অভিযোগ

দেখুন: ভ্যাট আইন প্রবর্তন ব্যবসাকে অনেক সহজ করেছে 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন