নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিশেষ খানা গ্রামে প্রায় চারশ’ বছরের পুরোনো একটি জমিদার বাড়ির ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভবনে বসবাসরত আরও অন্তত ১২ জন আহত হন। গতকাল মধ্যরাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত নারী আক্তার বানু (৬০ ঊর্ধ্ব)। দুর্ঘটনার পর তাকে দ্রুত সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আক্তার বানুর ভাতিজা নয়ন জানান, মধ্যরাতে ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং আহত অবস্থায় আক্তার বানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত নারীর নাতি আরাফাত জানান, রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ভবনের ভেতরে লোহা বা রড খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন সন্দেহে তারা বাইরে বের হন। চোরদের না পেয়ে কিছুক্ষণ পর আবার ঘরে ফিরে যান। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ করে দোতলার ছাদ ধসে পড়ে। এতে তার দাদি আক্তার বানু মারাত্মকভাবে আহত হন।
আরাফাতের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরচক্র ওই ভবনসহ আশপাশের পুরোনো স্থাপনা থেকে লোহা ও রড খুলে নিয়ে যাচ্ছে। শনিবার দিবাগত রাতেও চোরেরা ভবনে প্রবেশ করে রড খুলতে চেষ্টা করে। তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই ছাদ ধসে পড়ে।
ভবনে বসবাসকারী অন্যান্য পরিবারগুলোর সদস্যরাও জানান, স্থানীয় কিছু বিপথগামী যুবক মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায় তিনশ’ বছরের পুরোনো এসব ভবন থেকে নিয়মিত লোহা ও রড খুলে নিয়ে যায়। এতে ভবনগুলো দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এক যুগেরও বেশি সময় আগে উপজেলা প্রশাসন এসব ভবনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্ক করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পড়ুন : সোনারগাঁওয়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ


