০৯/০২/২০২৬, ২২:১১ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ২২:১১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সরকারি রাস্তার অংশ নির্ধারণ নিয়ে নেত্রকোনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় চিরাং ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও সরকারি রাস্তার অংশ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে কেন্দুয়া থানাধীন চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা কাচারী মোড় সংলগ্ন একটি ধানক্ষেতে এ সংঘর্ষ ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলীর ভুইয়ার ছেলে জীবন ভূইয়া ও জাহের উদ্দিনের ছেলে চন্দন মিয়া পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। একাধিকবার গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও সম্প্রতি ওই জমির পাশ দিয়ে যাওয়া সরকারি হালটের রাস্তার অংশ নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার দিন (আজ) চন্দন মিয়ার পক্ষ সরকারি রাস্তার অংশে সুরকি ফেলতে গেলে জীবন ভূইয়ার পক্ষের মিরাস উদ্দিন ভূইয়া এতে বাধা দেন। এনিয়ে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উভয় পক্ষের তিন-চার শত লোক দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ২৬ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ১২ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- আজম মিয়া, সজল মিয়া, রামিম মিয়া, রফিকুল ইসলাম খান, এখলাস উদ্দিন খান, শাজাহান খান, মিরাস উদ্দিন ভূইয়া, জীবন ভূইয়া, সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, রোকন ইসলাম ভূঁইয়া ও মামুন ভূঁইয়া।

খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহাদী মাকসুদ বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও সরকারি রাস্তার অংশ নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পড়ুন- ঠাকুরগাঁও ডিসি কার্যালয়ের নিয়োগ ঘিরে হওয়া কল রেকর্ড ফাঁস, প্রত্যাহার ডিসির দেহরক্ষী

দেখুন- শীতে কাবু আখাউড়া, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর ভিড়

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন