আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে রিলিজ করে দেয়ার প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটাঙ্গনে উত্তেজনা চলছে। সেই উত্তেজনা ক্রিকেট মাঠ ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে রাজনীতির ময়দানেও। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা সব অংশগ্রহণকারী দেশকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত। তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ঢাকার ওপরই নির্ভর করছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে বাংলাদেশ সরকার নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট না করা পর্যন্ত ভারত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না বলেও জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ দৈনিক সংবাদমাধ্যমটি।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে চায় বা ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি পুরোপুরি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি বক্তব্য, ‘এটা একটি বহুজাতিক টুর্নামেন্ট। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী ভারত সব অংশগ্রহণকারী দেশকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে চায় বা ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি পুরোপুরি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। প্রথম সিদ্ধান্তটা ঢাকাকেই নিতে হবে।’
ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পাকিস্তান আর বাংলাদেশের অবস্থান ভিন্ন। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভারতের একটি নির্দিষ্ট ক্রীড়া নীতি রয়েছে। সেটা হলো—দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হবে না এবং একে অপরের দেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতেও যাবে না। বহুজাতিক আসরে পাকিস্তান-ভারত ম্যাচগুলো সাধারণত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের ব্যাপারে বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে আলাদা সমঝোতা আছে।
পাকিস্তানের জন্য বিভিন্ন স্তরে বাধা থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধা নেই বলে জানাচ্ছে ভারত। দেশটির সরকারি সূত্র বলেছে, ‘বাংলাদেশ দল খেলতে এলে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভারত সবসময়ই অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে স্বাগত জানাতে চায়। তারা আসবে কি না—এ সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশের। বল এখন তাদের কোর্টে।’
উল্লেখ্য, ভারত ও শ্রীলঙ্কার আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে ২০ দলের অংশগ্রহণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ দলের কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে তিনটি এবং মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ খেলার কথা। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

