বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, চাঁদাবাজি, জমি ও ঘের দখল, সন্ত্রাস ও লুটপাটে জড়িত শক্তির হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিলে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালও নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যারা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালিয়েছে, ঘের দখল করেছে, এমনকি বাজারে বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করেছে-তারা কারা? ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট শাসন ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে এই অপকর্মগুলো কারা করল- এই প্রশ্নের উত্তর জাতিকে খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, “এ ধরনের অপরাধী শক্তির হাতে যদি রাষ্ট্রের ক্ষমতা যায়, তাহলে কোনো মানুষেরই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে না।”
গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “এই সময়ে লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ—সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো সরকার বা নেতা বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে, তারা দেশকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত করতে পেরেছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে। “একজনকে এমপি বানানো হবে, তিনি থাকবেন ঢাকা কিংবা লন্ডনে। আর এলাকায় তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও ঘের দখলে লিপ্ত থাকবে—এই চক্র আর চলতে দেওয়া যায় না,” বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিবেক দিয়ে বিচার করুন- কে দুর্নীতিমুক্ত, কে মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রেখেছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা তুলে দেওয়া যাবে না। ভোটের আমানত সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতেই দিন।”
গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, গাজী সাইফুল্লাহ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মণ্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন- দৌলতপুরে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের ব্যাপক গণসংযোগ
দেখুন-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি


