২৭/০২/২০২৬, ১৫:৩৩ অপরাহ্ণ
31.6 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ১৫:৩৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বন ছেড়ে বাক্সে মধু: নিরাপদ পথে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মৌয়ালরা

একসময় গভীর বন, পাহাড় কিংবা সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশই ছিল মধু সংগ্রহের প্রধান ভরসা। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই মৌয়ালদের সংগ্রহ করতে হতো মধু। তবে সময়ের পরিবর্তনে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই চিত্র বদলেছে। এখন কৃত্রিম উপায়ে মৌচাষ করে নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে মধু উৎপাদনে ঝুঁকছেন অনেক মৌয়াল।

বিজ্ঞাপন

বিশেষভাবে তৈরি মৌ বাক্সে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন করা হচ্ছে। ফুলের বাগান, সরিষা ক্ষেত কিংবা বিভিন্ন ফসলের মাঠের পাশে এসব বাক্স স্থাপন করে নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাড়ছে মধু উৎপাদন। এতে একদিকে যেমন খাঁটি ও নিরাপদ মধু পাওয়া যাচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের মাঝেও এই মধুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জামালপুরে আসা একাদিক মৌয়ালদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে বনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক ঝুঁকি নিতে হতো। এখন সেই ঝুঁকি নেই। ফসলের মাঠে বাক্স বসিয়ে কৃত্রিম উপায়ে সহজেই মধু সংগ্রহ করা যাচ্ছে। যদিও কারও কারও মতে, এতে প্রাকৃতিক অরনা মৌমাছির সংখ্যা কমে যেতে পারে। তবে মৌয়ালদের দাবি, আধুনিক পদ্ধতিতে কম খরচে বেশি লাভ করা সম্ভব হচ্ছে এবং বছরে একাধিকবার মধু সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

জামালপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় চার হাজার মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন মৌয়ালরা। সপ্তাহে একবার বাক্স থেকে মধুভরা চাক সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে মধু বের করা হয়। এরপর তা স্থানীয় বাজারসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাজারজাত করা হচ্ছে। এই পেশার মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

যশোর থেকে আসা আমিনুর মৌয়ালরা জানান, নিজস্ব উৎপাদিত মধু তারা নির্ভেজাল ও খাঁটি হিসেবে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন, যা বাজারে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আঃ রৌফ বলেন, কৃত্রিম মৌচাষ একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এতে ফসলের পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়ছে, পাশাপাশি মধুর চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মৌচাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে মৌচাষের চিত্র। কৃত্রিম উপায়ে মধু উৎপাদন এখন আর শুধু বিকল্প নয়—বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় এক নতুন দিগন্তের সূচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পড়ুন- ত্রিশালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে স্বস্তি ফেরাতে মহড়া অনুষ্ঠিত

দেখুন- আইপিএল বিতর্ক সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকবে’ |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন