প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত জনাব লুৎফে সিদ্দিকী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেসব ঘাটতি পূরণে কাজ চলমান রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আয়োজিত দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসবে গণভোটের প্রচারণা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, গণভোট একটি অত্যন্ত দুর্লভ সুযোগ। আমাদের মনে রাখতে হবে—অনেক শহীদ, আহত ও নিহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। গণতন্ত্র মানে শুধু প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভোট দিয়ে নতুন স্বৈরাচার তৈরি করা নয়।
তিনি বলেন, এই পাঁচ বছরের মধ্যে নেতারা যেন শোষক না হয়ে জনগণের সেবক হতে পারেন—সে লক্ষ্যে একটি কার্যকর কাঠামো বা রিডিজাইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঐক্যমত কমিশনের জুলাই সনদে সেই সিদ্ধান্তগুলোই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন তো হবেই। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনগুলো কার অধীনে হবে—তা নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি না, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কেমন হবে, বিচার বিভাগের সক্ষমতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। বক্তৃতায় তিনি গণভোটের তাৎপর্য, ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব এবং জনগণকে সঠিকভাবে অবহিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আগামীকাল সাতকানিয়া থেকে নতুন একটি কর্মসূচি শুরু করা হবে। চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলা ও প্রতিটি ঘরে ঘরে গণভোট সংক্রান্ত লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সুপার ক্যারাভান ও ছোট ক্যারাভান রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও একটি নতুন ক্যারাভান সংযোজনের চেষ্টা চলছে, যাতে গণভোট নিয়ে জনগণের মধ্যে কোনো ধরনের সংশয় না থাকে। মানুষ যেন আর কোনো তথ্য জানার জন্য আকুতি অনুভব না করে—সে লক্ষ্যে সব তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে, ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রতিটি সরকারি অফিসের সামনে বড় বড় ব্যানার ও বিপুল পরিমাণ ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। এর আগে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সুপার ক্যারাভান, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
পড়ুন: যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান
আর/


