শিক্ষার্থীদের নৈতিকশিক্ষা এবং সততা গড়ার লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ “সততা স্টোর”। দোকানে নেই কোনো বিক্রেতা। শিক্ষার্থীরা নিজের প্রয়োজন মতোই নির্ধারিত মুল্যে শিক্ষা উপকরণসহ খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে টাকা রেখে যাচ্ছেন একটি বাক্সে। নেই কারো নজরদারি, তাদের বিশ্বাসই তাদের মূলনীতি।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল আগাড় অনিবার্ন শিক্ষা নিকেতন ও বারমারি উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে এই ‘সততা স্টোর’।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ অঞ্চলের অর্থায়নে দুটি স্টোরের শুভ সুচনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে দুটি সততা স্টোর উদ্বোধন করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান।
আলোচনা সভায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার, উপ-সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারেক, মো. মশিউর রহমান, বারমারি কম্পেশনের ম্যানেজার এলিসন ঘাগ্রা সহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এমন একটি ব্যতিক্রমী দোকান পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, নিজেদের সততা প্রকাশের একটা সুযোগ পেয়েছি আমরা। প্রয়োজন অনুযায়ী খাতা, কলম কিংবা অন্যান্য সামগ্রী নেওয়ার স্বাধীনতায় তারা আনন্দিত। এই দোকান শুধু জিনিসপত্র কেনার জায়গা নয়, এটা সৎ থাকার পরীক্ষা। আমরা অন্যায় করবো না-অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবো না। সোনার বাংলা গড়তে সকলে মিলে একসাথে কাজ করবো।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘সততা স্টোর’ কেবল একটি দোকান নয়, এটি নতুন প্রজন্মের জন্য এক ধরনের নৈতিক পাঠশালা যেখানে শেখানো হয় বিশ্বাস, আত্মনিয়ন্ত্রণ আর বিবেক জাগিয়ে রাখার শিক্ষা। ছাত্রজীবন থেকেই নৈতিক শিক্ষা পেলে পরবর্তি জীবনে তারা আত্মনির্ভরশীল ও সৎ হবে।
দুদকের এমন উদ্যোগ সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানানো হয়।
পড়ুন- ফার্মেসিতেই ‘ডাক্তারখানা’, আখাউড়ায় ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
দেখুন- ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক-বো\মা, বিপাকে ভারতসহ বিশ্ব


