বগুড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ তালিকাভুক্ত দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলার অন্তত পাঁচটি স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত পেশাদার অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া দু’জন হলেন— পোদ্দার বাহিনীর প্রধান ও অস্ত্র ব্যবসায়ী ফিরোজ পোদ্দার এবং তার সহযোগী রায়হান আলী। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে বগুড়া শহরের শাকপালা এলাকা থেকে ফিরোজ পোদ্দারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে শাজাহানপুর উপজেলার ওমরদিঘী এলাকা থেকে সহযোগী রায়হান আলীকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ বেচাবিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে সেনাবাহিনী ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি নয় মিলিমিটারের ব্রিটিশ বুলডগ রিভলভার, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য।
স্থানীয়রা জানান, ধুনটের এক নিভৃত গ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িটি ভাড়া নিয়ে গোপনে আস্তানা গড়ে তুলেছিল পোদ্দার বাহিনী। নির্জন সেই ঘর থেকেই বগুড়া জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদামতো আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হতো। গ্রামের ভেতরে এভাবে অস্ত্র ও মাদকের মজুদ থাকার ঘটনায় হতবাক গ্রামবাসী।
সেনাবাহিনীর দাবি, ফিরোজ পোদ্দার তার বাহিনী নিয়ে এই বাড়িটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল। এখান থেকেই অস্ত্র বেচাকেনার পাশাপাশি অপহরণসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো।
এ বিষয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ তমাল, অধিনায়ক, ৪০ বীর, বগুড়া সেনানিবাস জানান—“গ্রেফতার ফিরোজ পোদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, অপহরণ ও মাদকসহ মোট আটটি মামলা চলমান রয়েছে। তাকে ও তার সহযোগীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
সেনাবাহিনীর এ অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পড়ুন : বগুড়ায় ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান


