রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের নিরবচ্ছিন্ন ও আধুনিক সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নির্মাণাধীন মুক্তারপুর–পঞ্চবটি দ্বিতল সড়ক ও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মুন্সীগঞ্জবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা। এর ফলে কমে আসবে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এই মেগা প্রকল্পের ৮১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ পুরো কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় প্রায় ৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে দিন-রাত তিন শিফটে বিরতিহীনভাবে কাজ চলছে। একদিকে দ্বিতল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণের পিলার ও স্প্যান বসানোর কাজ চলছে, অন্যদিকে নিচের বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও এগোচ্ছে সমানতালে।
যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে প্রকল্পটিতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক নানা সুবিধা। প্রকল্পের আওতায় মোট ১০.৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ৯.৬ কিলোমিটার হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা দ্বিতল সড়ক।
যানজট নিরসনের লক্ষ্যে পঞ্চবটি মোড় থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও চাষারার দিকে ৩১০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ৬ লেনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে ৪৪৩ মিটার সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া থাকছে টোল প্লাজা, গোলচত্ত্বর, সংযোগ সড়ক, ওজন পরিমাপক কেন্দ্র ও র্যাম।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি শহীদ-ই-হাসান তুহিন বলেন,এই দ্বিতল সড়ক চালু হলে কেবল যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং মুন্সীগঞ্জের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য দ্রুত রাজধানীতে সরবরাহে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এটি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা আরও সচল করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রো সংযোগ পরিষদের আহবায়কমঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এ দ্বিতল সড়কটি চালু হলে অর্থনৈনিতভাবে অনেক সুফল বয়ে আনবে, যারা নিয়মিত এ রুটে যাতায়াত করেন তারা সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, মুন্সীগঞ্জের প্রচুর ছাত্রছাত্রী আছে যারা ঢাকায় লেখাপড়া করেন, তাদের ছাত্রাবাসে থাকা নিয়ে ঝামেলা কমবে, এবং তারা সহজেই বাসায় চলে আসতে পারবে। এই আধুনিক দ্বিতল সড়ক চালু হলে ঢাকার প্রবেশমুখে বিশেষ করে ফতুল্লা ও পঞ্চবটি এলাকার তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পাবেন মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জবাসী। এতে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় বাঁচবে অর্ধেকের বেশি।
প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৮১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নিচের প্রশস্ত সড়ক দিয়ে যান চলাচল আগের মতোই টোলমুক্ত থাকবে। তবে যারা যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে উপরের ‘দ্বিতল সড়ক’ বা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবেন, তাদের নির্ধারিত হারে টোল প্রদান করতে হবে।
পড়ুন- পে স্কেলে ধৈর্য ধরুন, রিপোর্ট পেলেই বাস্তবায়ন: অর্থ উপদেষ্টা
দেখুন- জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সুরক্ষা আইনের অধ্যাদেশ অনুমোদন


