গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সে পরিকল্পনার অধীনে গাজার সার্বিক বিষয়াদি তদারকির জন্য একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বোর্ড সদস্যদের নাম জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
বিবৃতিতে বলা হয়, বোর্ডটির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং ইরাক যুদ্ধের ‘খলনায়ক’ হিসেবে পরিচিত টনি ব্লেয়ারকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও রয়েছেন।
বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন–অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও কাতারের কূটনীতিক আলি আল থাওয়াদি।
হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, বোর্ডের সদস্যরা ‘গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দিষ্ট পোর্টফোলিও তদারকি করবেন’। এর মধ্যে রয়েছে শাসনব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্পর্ক, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন এবং পুঁজি সংগ্রহ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুলগেরিয়ার কূটনীতিক ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ গাজার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে গাজার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেফার্স নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া এবং ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ কার্যক্রমে বাহিনীটির নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়।
গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর এবং ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজাকে (এনসিএজি) সহায়তা করবে।
এই কমিটির প্রধান হিসেবে থাকবেন আলি শা’থ, যিনি হামাসের পরিবর্তে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলি শা’থ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিবহন উপমন্ত্রী। তিনি গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থান করছেন।
এর আগে হামাস জানিয়েছিল, ট্রাম্প পরিকল্পনার আওতায় তারা গাজার শাসন পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। বোর্ড অব পিসের নির্বাহী বোর্ড গঠন নিয়ে হামাস কিংবা অন্যান্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের ভরাডুবি, বিশ্বসেরা ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টিই চীনের


