পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না—এই ধ্রুব সত্যকে আবারও প্রমাণ করল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নিভৃত পল্লীর আলোকবর্তিকা রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
‘শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬’-এ উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে বিদ্যালয়টি ময়মনসিংহ জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নয়, বরং এলাকাবাসীর আবেগ, ভালোবাসা এবং ত্যাগের এক মূর্ত প্রতীক।
আজকের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মিশে আছে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিবেদিতপ্রাণ সেইসব মানুষদের অবদান, যারা নিজেদের জমি, অর্থ, শ্রম ও মেধা দিয়ে এই বিদ্যাপীঠকে গড়ে তুলেছিলেন। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকমণ্ডলীর আন্তরিকতায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের সমন্বয়ই আজকের এই সেরার কাহিনী।
২০২৩ থেকে ২০২৬
রামপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেবল শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং বহুমুখী প্রতিভায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। বিগত ২০২৩ এবং ২০২৪ সাল থেকেই ত্রিশাল উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্বের ধারা বজায় রেখে এবার তারা জেলা পর্যায়েও শীর্ষস্থান দখল করেছে।
এবারের অর্জনের মুকুটে যোগ হয়েছে আরও কিছু উজ্জ্বল পালক:
শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক, স্কাউট দল ও শ্রেষ্ঠ স্কাউটার
শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড দল শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ।
এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর হিসেবে বিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক ববহুগুনে গুনাম্বিত বিনয়ী নম্র ভদ্র সদা হাস্যউজ্জল মোঃ ফারুখ রেজাউল ইসলাম।
এ ছাড়াও সম্যানেজিং কমিটির দূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং সকল শিক্ষক-কর্মচারীর একনিষ্ঠ শ্রম এই পথচলাকে করেছে মসৃণ।
“আমাদের পল্লীর এই শান্ত-নিভৃত গ্রামের বিদ্যালয়টি আজ পুরো জেলায় শ্রেষ্ঠ—এটি আমাদের সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর গর্ব। আমরা কৃতজ্ঞ সকলের কাছে যারা এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাদের পাশে ছিলেন।
রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের লক্ষ্য এখন আরও সুদূরপ্রসারী। শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত শিখরে পৌঁছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থার শেষ ঠিকানা হতে চায় এই প্রতিষ্ঠান। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এই বিদ্যালয়টি শুধু জেলায় নয়, একদিন জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের।
পড়ুন- মাগুরায় পুরোহিতের বাড়িতে চুরি; নেই ১১ ভরি স্বণালংকার


