২৪/০২/২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
25.9 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ইউএপিতে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন

শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে শো-কজ লেটার প্রদানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ; হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্থার অভিযোগে শিক্ষিকা লায়েকা বশীর স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি; বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এর সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলামনাই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে তারা শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে একজন অধ্যাপককে শো-কজ লেটার দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থার অভিযোগে এক শিক্ষিকার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি তোলেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্রিং ২৪ এর শিক্ষার্থী জামশেদ কুতুব পাশা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসছে। তারা দাবি করেন, শিক্ষক লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটুক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে এসব কর্মকাণ্ডের কিছু ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয় অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদের শো-কজ প্রসঙ্গ। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জুম্মার নামাজের পর অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহর সাক্ষাৎ করেন এবং একটি গ্রুপ ছবি তোলা হয়। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে শো-কজ নোটিশ দেয়, যা শিক্ষার্থীদের মতে সরাসরি ধর্মীয় পক্ষপাত ও ইসলামবিদ্বেষের প্রকাশ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, একই সময়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধর্মীয় বৈষম্য ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ দ্বিচারিতার প্রমাণ এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামবিদ্বেষ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পূর্বে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবিও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। তারা অনতিবিলম্বে লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার চান। একই সঙ্গে শো-কজের মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং বিগত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবনতি ও ১৯ আগস্ট ২০২৪-এর দাবিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর কামরুল আহসানের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ১৬(৮) অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজকে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

পড়ুন- রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে হুমকি, থানায় জিডি

দেখুন- পর্বতসম বেদনার বাস্তব গল্পগুলো কাঁদালো তারেক রহমানকে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন