আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের ৮টি সংসদীয় আসন সরগরম হয়ে উঠেছে। গ্রাম থেকে শহরে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে জেলার সর্বত্র। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে না থাকায় জামায়াত ও বিএনপি দুই দলই চেষ্টা করছে দলটির সমর্থক ভোটারদের কাছে টানতে। বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও একাধিক প্রার্থী থাকায় সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু তার আগে থেকেই প্রার্থীরা ভিন্ন কৌশলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন ভোটারদের মধ্যে।
যদিও এখনো কাগজে প্রচারণা চোখে পড়ছে না, তবে মতবিনিময়সভা, উঠান বৈঠক, খেলাধুলার উদ্বোধন কিংবা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা কার্যত নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
এসব কর্মসূচির আড়ালেই চলছে ভোট বা গণভোটের আলাপ। ফলে সাধারণ ভোটারদের পক্ষে বোঝার উপায় নেই যে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা এখনো শুরুই হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রার্থীদের এমন ভিন্ন রকম তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের ভোটের মাঠ।
প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের এই আগাম প্রচারণা নজরে আসায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও মাঝেমধ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
এই আগাম প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ডিজিটাল ও অনলাইন মাধ্যম। আবার অনেক ক্ষেত্রে উঠান বৈঠক বা মতবিনিময়সভায় প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনার বক্তব্যও উঠে আসছে।
এদিকে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মোট ৪৭ জন প্রার্থী থাকলেও সক্রিয়ভাবে মাঠে দেখা যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৩১ জনকে।
এর মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। মাঠে সক্রিয় প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি’র প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম, জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, জাতীয় পর্টির প্রার্থী মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ও আসাদুল ইসলাম। এসব প্রার্থীরা প্রতিদিন রুটিন করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারুন অর রশীদকে মাঠে এখনো সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর ও ভূঞাপুর) আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এরা হলেন, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সালাম পিন্টু মনোনয়নপত্র জমা দেয় এবং জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবির। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী শাকিল উজ্জামান মাঠে সক্রিয় থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এরা হলেন- বিএনপি’র এস.এম. ওবায়দুল হক, এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রেজাউল করিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ ও আইনিন নাহার।
এ আসনে জামায়াতে প্রার্থী হোসেনী মোবারক এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দারকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এরা হলেন-বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লুৎফর রহমান, জামায়াতে প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত আলী, ইসলাম আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলী আমজাদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিক।
টাঙ্গাইল-৫ ( সদর) : এ আসন থেকে ১০ প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জামায়াতের প্রার্থী আহসান হাবীব, গনসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) প্রার্থী ফাতেমা আক্তার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) প্রার্থী সৈয়দ খালেক মোস্তফা একাই প্রচারণা চালাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) : এ আসন থেকে ৭ প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে বিএনপি’র প্রার্থী রবিউল আওয়াল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আখীনুর মিয়া, জাতীয় পার্টি (জেপি) তারেক শামস খান, জামায়াত ইসলামীর ডাঃ এ কে এম আব্দুল হামিদ।
এদিকে বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আতিকুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) : এ আসন থেকে ৩ প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ২ জন। এর মধ্যেবিএনপি’র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন। তবে মঙ্গলবার এ আসনে ২ প্রার্থী অন্য তাদের নোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল- সখীপুর) : এ আসন থেকে ৬ প্রার্থীর মধ্যে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ৪ জন। এর মধ্যে বিএনপি’র প্রার্থী আহম্মেদ আযম খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র শফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির আওয়াল মাহামুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর ।
এ ব্যাপারে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে বলেন, আমাদের সব কেন্দ্রগুলো প্রস্তত রাখা হয়েছে। প্রার্থীদের প্রতি আহবানÑ সবাই যেন নির্বাচনী আচরনবিধি মেনে চলেন। টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মোট ভোটার ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন এবং ভোট কেন্দ্র ১ হাজার ৬৩টি।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

