২৪/০২/২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
19.3 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কুবি শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অনলাইন ও অফলাইন জুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রত্যাশা। দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার পর এবার নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনায় এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরীক্ষাক্ষণ।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন। ভোটের পরিবেশ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা-এসব বিষয় ঘিরেই তাদের আশা ও উদ্বেগ।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সুইটি বলেন, জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন তিনি। তাই একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের ভোট কারচুপির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ভোটার যেন নিজের ভোট দিতে পারে এবং প্রার্থীর নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নারী ভোটার হিসেবে তিনি নারীর অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তু দাশের মতে, এই নির্বাচন তরুণদের জন্য ভোটাধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকর-তা যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ। তিনি বলেন, ভোট মানে শুধু কেন্দ্রে যাওয়া নয়; স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত না হলে তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহ হারানো স্বাভাবিক। তাঁর কাছে ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আল ফেরদৌস বলেন, তিনি এমন একটি সরকারের প্রত্যাশা করেন, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার গুরুত্ব পাবে। নির্বাচিত সরকারকে জনসম্মুখে জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি উন্নয়ন কাজে গুণগত মান ও বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন মেঘলা বলেন, এই নির্বাচন যেন দীর্ঘদিনের অনাস্থা ও সহিংসতার ধারাবাহিকতা ভেঙে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে। তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ নিশ্চিত না হলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ে তার মধ্যে যেমন প্রত্যাশা আছে, তেমনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কিছুটা সংশয়ও কাজ করছে। তবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতার ওপর নির্ভর করেই এবারের নির্বাচন নিয়ে তাঁর আশাবাদ। তিনি দুর্নীতিমুক্ত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলেন।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি। তরুণদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি বিষয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার থাকার দাবি জানান তিনি। তবে বেশির ভাগ দলের কাছ থেকে স্পষ্ট ইশতেহার না পাওয়ায় হতাশার কথাও জানান।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনায় স্পষ্ট-তারা ক্ষমতার পালাবদলের চেয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরও দৃঢ় করার বাস্তব সুযোগ হয়ে ওঠে।

পড়ুন: চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন

দেখুন: সৌদি থেকে রেমিট্যান্স কমার কারণ কী? |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন