26.3 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটন তাদের বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে কোনো আক্রমণ করা হলে তারা হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো নিছক হুমকি নয় বরং বাস্তব সত্য। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সর্বাত্মক সংঘাত অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া কাল্পনিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হবে। আরাগচির মতে, এমন যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। এর আগের দিন নিউজ নেশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’। 

ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো ধরনের আঘাত আসার সামান্যতম ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তারা কেবল আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবেন না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট রাখবেন না। এই পাল্টাপাল্টি বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং তারা ট্রাম্পকে হামলা না করার জন্য কূটনৈতিকভাবে চাপ দিচ্ছে।

সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রণতরীটি এখন ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে মাত্র কয়েক দিন সময় লাগবে। 

যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই রণতরী মোতায়েনের সুনির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতি তেহরানের জন্য একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই ধরা হচ্ছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণভাবেও ইরান এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এখন সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা এই মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছেন এবং নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার বলে স্বীকার করেছেন। 

এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বাইরের সামরিক হুমকির দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

পড়ুন- অবসরে গেলেন ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানো নভোচারী সুনীতা

দেখুন- কুমিল্লা- ২: হাইকোর্টের রায় স্থগিত, ইসির সীমানা অনুযায়ী হবে নির্বাচন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন