বিনোদন জগতে সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আকৃতি কক্কর এর মধ্যেই কাটিয়ে ফেলেছেন ১৫ বছর। অবাঙালি হয়েও উপহার দিয়েছেন একের পর এক বাংলা হিট গান। শীতের শহরে অনুষ্ঠান করতে এলেন গায়িকা। একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানালেন মনের কথা।
আকৃতি বলেন, কলকাতায় এসেছি, আরও বেশি ভালো আছি। এবার সঙ্গে আমার স্বামী ও দুই বছরের ছেলেও এসেছে। বাইরে দেখলাম এই ঠান্ডার মধ্যে অগণিত শ্রোতা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। এর থেকে বেশি আর কি চাই বলুন?
তিনি বলেন, কলকাতার ফুচকার কোনো তুলনা হয় না। এবার আমার স্বামীকে এখানকার নামকরা একটা বাঙালি রেস্তোরাঁর বিশেষ খাবার ট্রাই করিয়েছি। আসলেই শহরটা আমার কাছে বাড়ির মতো। আমি পাঞ্জাবের মেয়ে হয়েও সবসময়ে বলি যে, কলকাতার শ্রোতার মতো কমিটেড শ্রোতা আমি কোথাও পাইনি।
সেভাবে বাংলা গান গাইতে শোনা যাচ্ছে না। এর কারণটা কি? এর উত্তরে এ সংগীতশিল্পী বলেন, এখনো স্টেজে উঠলে পাগলু না গেয়ে আমাকে নামতে দেওয়া হয় না। তবে বর্তমানে তেমনভাবে বাংলা গান গাওয়ার প্রস্তাব আমার কাছে আসেনি। ভালো গান এলে অবশ্যই আবার কাজ করব।
রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে না বসাটাও তার সচেতন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন আকৃতি। সন্তান ছোট, তাই এখনই বেশি সময়ের কাজ তিনি করতে চান না। নতুন মাতৃত্ব কেমন এনজয় করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে এ সংগীতশিল্পী বলেন, এর থেকে সুন্দর সময় জীবনে আর কখনো আসেনি। সবে দুই বছর হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি, অনেক কিছু শেখা বাকি রয়ে গেছে।
আকৃতি বলেন, আমার ছেলে আমার জীবনে আসার পর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলো যে বদলেছে। আমি ৯ মাস প্রেগন্যান্সিতেও প্রোগ্রাম করেছি। তাই বোধহয় জন্মের আগে থেকেই সুরের বোধ তৈরি হয়েছে। এতটুকু বাচ্চা, আমি কখনো অনুষ্ঠানে ওকে রেখে স্টেজে উঠলে একটুও কান্নাকাটি করে না। গান শুনতে খুব ভালোবাসে।
ছেলে সংগীত জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকবে— এমন ইচ্ছা আছে আপনার? উত্তরে এ গায়িকা বলেন, ‘ও তো এখনো খুব ছোট। আমি কোনো কিছুই ওর ওপর চাপিয়ে দেব না। তবে অবশ্যই চাইব গানের সঙ্গে একটা সহাবস্থান থাকুক।
বর্তমানে এআই দিয়ে গান গাওয়ানো হচ্ছে। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে এটা আপনাকে কতটা ভাবায়? আকৃতি কক্কর বলেন, এটা আমাদের সবার জন্য একটা বড় থ্রেট। একবার একটা গানের স্ক্র্যাচ ভার্শন আমাকে শোনানো হয়েছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম, সেটাতে কোনো আবেগ নেই। পরে জানতে পারি, ওটা এআই দিয়ে তৈরি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়। তবে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক, মানুষকে টেক্কা দেওয়া মুশকিল। আজ আমি এখানে অনুষ্ঠান করলাম, এত মানুষের ভালোবাসা দুই হাত ভরে নিয়ে যাব। কোনো এআইয়ের ক্ষমতা নেই এ পরিবেশ তৈরি করার।
পড়ুন: সিলেটে বিএনপির জনসভা: নেতাকর্মীদের ঢলে লোকারণ্য মাঠ
দেখুন:যেকোনো মূল্যে গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা ট্রাম্পের |
ইম/


