দিনভর সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি শেষে বিকালে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেও মিলেনি সিদ্ধান্ত।পরিবহন ধর্মঘট বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থেকেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন পরিবহন মালিক নেতারা। যদিও হলরুমের বাহিরে এসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মটর মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সৌদিয়া পরিবহন ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ রাখে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার বিকালে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পরিবহন মালিকরা। এসময় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন, কার্যকরী সভাপতি ও বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
পরে বৈঠক থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচনের সময় ঘনিয়েছে আর প্রশাসনের অনুরোধের কারণে আমরা সাময়িক ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমাদের গাড়িগুলো চলাচল করবে।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙামাটির সঙ্গে সারাদেশের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-বান্দরবানগামী কোনো যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। অনেকেই সিএনজি অটোরিকশায় যাতায়াত করে চট্টগ্রাম শহরসহ আশপাশের গন্তব্যে গিয়েছেন। কেউ কেউ বাতিল করেছেন গন্তব্যও।
চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিগামী যাত্রী অজয় মিত্র বলেন, ‘এ সড়কে আমরা যারা নিয়মিত যাতায়াত করি এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অঞ্চলের মানুষরা এই পরিবহন মালিকদের কাছে দীর্ঘফিন ধরেই জিম্মি। আজকে সকাল থেকেই হুট করে বাস বন্ধ করে। এখন চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কোনো গাড়ি পাইনি। শেষ পর্যন্ত তিনজন মিলে একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে রাঙামাটি আসতে হচ্ছে। এতে করে আমাদের একদিকে হয়রানি ও সময় ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।’
পরিবহন মালিক ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে সৌদিয়া পরিবহন তাদের দুটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করলেও মালিক সমিতিকে তারা টোকেন ফি জমা দিচ্ছিল না। ফলে বুধবার সমিতির লোকজন সৌদিয়া কাউন্টারে গিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে আসে। এমনকি কারণে কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।
তবে সৌদিয়া বাস কাউন্টারের রাঙামাটি ব্যবস্থাপক আরমান হোসেন বলেন, আমরা সব ধরণের অনুমতি নিয়ে বাস চলাচল শুরু করেছি। কিন্তু গতকাল (বুধবার) হঠাৎ আমাদের কাউন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির লোকজন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমাদের কাউন্টারের তালা খুলে দেয়া হয়।
তবে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পড়ুন : জোটের সঙ্গে আসন বন্টন, রাঙামাটিতে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার


