বিজ্ঞাপন

বাণিজ্যমেলার আশপাশে এসপির বডিগার্ড পরিচয়ে আরিফের নামে শতাধিক ভাসমান দোকান; দর্শনার্থীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটকের বাহিরে ও আশপাশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের বডিগার্ড পরিচয়ে আরিফ নামের এক কনস্টেবলকে দৈনিক হারে টাকা দিয়ে চলছে শতাধিক ভাসমান ও অবৈধ দোকান। এতে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় হকারদের হাঁকডাকে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। তবে মেলায় সব পন্যের দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

মেলায় শেষ সপ্তাহে সরকারী ছুটির দিন শনিবারও ছিলো উপচে পড়া ভীর। ভেতরে স্টলে স্টলে বিক্রয়কর্মীরা হাক-ডাক দিয়েও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। আর মেলার বাহিরের গাড়ী পার্কিং জোনে পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি পক্ষ গড়ে তুলেছে অবৈধ দোকানের পসরা। পাশাপাশি মাসব্যাপী খাবার হোটেল, ভাসমান দোকান, চা পানের দোকান করতে দিয়ে দোকান প্রতি আরিফ নামের এক কনস্টেবল নিয়মিত দৈনিক ৩শ থেকে ৫শ টাকার বিনিময়ে ফুটপাত ও ভাসমান হকারদের সুযোগ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ আবার অস্থায়ী খাবার হোটেল থেকে নেয়া হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০ তম আসরের ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকালে ঘুরে দেখা যায়, দৃষ্টি নন্দন ভবন ও ফোয়ারায় ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা৷ একদিকে স্টলগুলোর সামনে হকার স্টাইলে বিক্রয়কর্মীদের হাক ডাক। তাতে সাড়া দিচ্ছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন কোম্পানির অফার লুফে নিচ্ছেন অনেকে।

মেলায় ঘুরতে আসা মৈকুলির বাসিন্দা শাহিবা মাহবুবা বলেন, বাণিজ্য মেলায় প্রবেশের সময় দেখলাম,পলিথিন বিক্রি করছে হকাররা৷ ভুট্রাভাজা,আসবাব, তৈজস,খোলা খাবার বিক্রি করতে দর্শনার্থীদের কাছে জোড়ে চেচাচ্ছিলো। আমরা পরিবার নিয়ে বিব্রত বোধ করেছি। আর মেলায় দেখলাম দামী ব্র্যান্ডের কোম্পানীগুলো নানা অফার দিয়েছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে স্টলের বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে সংসাজে প্রদশর্ন কর্মীরা। তাদের সাথে ছবি তুলে রাখছেন শিশু ও তরুণরা।

এদিকে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা দেখভাল করতে দেখা গেছে জেলা পুলিশের সদস্যদের। কিন্তু পার্কিং জোন এলাকায় কোন প্রকার অবৈধ দোকান বসানোর নিয়ম না থাকলেও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যদের ম্যানেজ করে বসানো হয়েছে শতাধিক দোকান। এসব দোকানের কোনটায় রান্না করা খাবার আবার কোনটায় চা পানের দোকান বসানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জু আহমেদের নির্দেশে জেলা পুলিশ সুপারের বডিগার্ড পরিচয়ে আরিফ নামের এক ব্যক্তিসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য মাধ্যমে দোকান প্রতি ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে দোকান করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর এসব দোকান বসাতে সহায়তা করেছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে আসা সরকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩শ ফুট দিয়ে মেলায় প্রবেশের সময় গাড়ীর পার্কিং জোনে কতিপয় পুলিশ নদীর পাড় নিতে বলেন। আমি সেখানে পার্কিং করে দেখতে পাই মেলা পার্কিং জোন থেকে বহুদূর। তারপর টিকেট নিয়েও ঝামেলা করে। এ সময় মেলার বাইরে থেকে হকার পরিচয়ে কাছাকাছি চলে আসে। পরে দেখি আমার পকেট থেকে মোবাইল নিয়ে যায়৷

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্সপেক্টর রঞ্জু আহমেদ বলেন, আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পার্কিং শৃঙ্খলা দেখভাল করছি। এখানে অবৈধ দোকান বিষয়ে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই। আরিফ কে তাকে খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত আরিফের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গাড়ী পার্কিং দেখি। কোন দোকান থেকে হকারদের থেকে কিছু নেইনি।

অন্যদিকে মেলার অভ্যন্তরে সব পন্যের দাম বেশি বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ছাড় দিয়েও যা হাকা হচ্ছে তাও স্থানীয় বাজার থেকে বেশি ধারনা করা হচ্ছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সেভয় লাভেলো, পোলার, ব্লুপ’র স্টল নিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করছেন দৃষ্টি নন্দন অস্থায়ী স্থাপনায়। প্রতিটা স্টলেই ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। স্টলের দায়িত্বে থাকা বিক্রয়কর্মীরা পার করছেন ব্যস্ত সময়।

বিক্রয়কর্মীরা বলেন, এখন বাংলায় মাঘ মাস চলছে। এ সময় সাধারণতা প্রচণ্ড শীত থাকে। তবে এবার ঢাকাতে শীতের তেমন কোনো আঁচ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার গরমও পড়ছে না। তো আইসক্রিমের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ সব সময় বেশি থাকে। শীতের সময় সাধারণত আইসক্রিমের চাহিদা কম থাকে। তবে এক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা সব সময় আইসক্রিম খেতে পছন্দ করেন।

পড়ুন: ভৈরব নদে দ্বিতীয় সেতুসহ উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করলেন আজিজুল বারী হেলাল

দেখুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ ও আহত পরিবারদের সাথে মতবিনিময় সভা |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন