০২/০৩/২০২৬, ১৩:৪৬ অপরাহ্ণ
31 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ধামরাইয়ে ‘ধর্ষণ’ গুজবের আড়ালে ছিনতাই: মামলার পর ৪ জন গ্রেপ্তার

ঢাকার ধামরাইয়ে গভীর রাতে সংঘটিত একটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ‘ধর্ষণ’-সংক্রান্ত যে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, তা পুলিশের তদন্তে ভিত্তিহীন বলে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। এর আগে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত চারজন হলেন, জিয়োস চন্দ্র মনি দাস (৩০), শ্রী চরণ (৫০), সুভন (৩০) ও দিপু চন্দ্র মনি দাস (৪৫)। তারা সবাই বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, শ্রী চরণের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় পূর্বে একটি মাদক মামলার তথ্য রয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি তার বান্ধবীকে নিয়ে ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ঐ রাতে আনুমানিক দেড়টার কয়েকজন ব্যক্তি তাদের রুমের দরজায় কড়া নাড়ে। সরল বিশ্বাসে দরজা খুলে দেন রাজ্জাক। এরপরই তারা ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাকে মারধর শুরু করে।

একপর্যায়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তার বান্ধবীকে ঘরের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয় দূর্বৃত্তরা। পুরো ঘটনা আনুমানিক ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটে এবং পরে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণধর্ষণের ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে পরে। ঘটনার পর রাজ্জাক চিকিৎসা নেন এবং বিষয়টি সহকর্মী ও স্থানীয়দের জানান। প্রায় ১০ দিন পর, ২২ জানুয়ারি তিনি ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় থানায় একটি ছিনতাই মামলা রেকর্ড করা হয়।

পরে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় চার জনের কাছ থেকে মোট ৮ হাজার ৬৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছিনতাইকারীরা সেদিন ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ে ভয় দেখাতে থাকে এবং মারধরের মাধ্যমে টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় । সেদিন ভয়ের কারণে আমি আমার বান্ধবীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। ওই রাতে ধর্ষণ বা কাউকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযুক্তদের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কেও তিনি কিছু জানতেন না বলে উল্লেখ করেন।

ছিনতাইয়ের ঘটনার পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এর পরে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ধামরাইয়ে বেড়াতে গিয়ে এক মুসলিম গৃহবধূ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই দাবিকে ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পরে পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ঘটনাস্থল বা আশপাশের কেউই ধর্ষণের কোনো তথ্য জানেন না। এমনকি যাকে ‘স্বামী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল, তিনিও এমন কোনো অভিযোগ করেননি। এমন কি ঘটনার সাথে জড়িত ওই নারীও ধর্ষণের কোন অভিযোগ করেন নি।

সে সাথে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা কেবল ছিনতাইয়ের কথা শুনেছেন, ধর্ষণের কোনো ঘটনা তাদের জানা নেই।

ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, এটি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিলো। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ধামরাইয়ে যক্ষার হটস্পট পপুলার হাসপাতাল, নিঃস্ব রোগীরা: তদন্তে সত্যতা মিললেও নীরব প্রশাসন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন