দড়ি বা কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাইওয়ানের সর্বোচ্চ ভবন তাইপে-১০১ বেয়ে উঠলেন মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনল্ড। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ৯১ মিনিটের এই ‘ফ্রি সলো’ অভিযানে হাজারো দর্শক নিচে দাঁড়িয়ে উল্লাস ও হাত নাড়িয়ে তাকে উৎসাহ দেন। নেটফ্লিক্সের আয়োজনে এবং সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই দুঃসাহসিক আরোহণ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
ভবনের চূড়ায় পৌঁছে হনোল্ড বলেন, ‘তাইপেকে দেখার এ এক অসাধারণ উপায়।’ এর আগে ভেজা আবহাওয়ার কারণে একদিন পিছিয়ে দেয়া হয় তার এই অভিযান। ভবনটি শুধু তাইওয়ানের নয় পুরো বিশ্বর মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতার ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৫০৮ মিটার (১,৬৬৭ ফুট) উচ্চতার তাইপে ১০১ শহরের আকাশরেখায় আধিপত্য বিস্তার করা এক প্রতীকী স্থাপনা। ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনও।
বর্তমানে সেই মুকুট দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার দখলে। পুরো আরোহণটি তাইপে ১০১ কর্তৃপক্ষ ও শহর সরকারের পূর্ণ অনুমতি ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। হনল্ড জানান, একসময় অনুমতি ছাড়াই ভবনটি আরোহণের কথা ভেবেছিলেন তিনি। তবে ভবন ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি তা করেননি এবং বৈধভাবে আয়োজনটি বাস্তবায়নের পথই বেছে নেন।
নেটফ্লিক্সের নির্বাহী প্রযোজক জেমস স্মিথ বলেন, কোনো ভবনের পক্ষ থেকে এমন আস্থা ও অনুমতি পাওয়া খুবই বিরল। তিনি তাইপে ১০১-কে “দেশের এক প্রকৃত আইকন” হিসেবে উল্লেখ করেন। এই অভিযানের পর তাইওয়ানের রাজনীতিকরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হনল্ড ও নেটফ্লিক্সকে ধন্যবাদ জানান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সাহসী ও নির্ভীক অ্যালেক্সকে এই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন।’ তিনি আরও বলেন, ‘নেটফ্লিক্সের লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্ব শুধু তাইপে ১০১-ই দেখেনি, দেখেছে তাইওয়ানের মানুষের উষ্ণতা, আবেগ এবং দেশের পাহাড়-প্রকৃতির সৌন্দর্য।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

