চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফির বিরুদ্ধে এক জামায়াত নেতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করে পাল্টা গাড়িতে হামলার দাবি জানিয়েছেন রাফি।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেনিপাড়া এলাকায় ১১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের প্রচার মিছিল চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি বহর সামনে পড়ে। মিছিলের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১১ নং ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি আজিজুল হক নুর গাড়িটি পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফি গাড়ি থেকে নেমে নুরের গলা চেপে ধরেন এবং তাকে প্রায় ২০-২৫ সেকেন্ড গলা টিপে ‘শূন্যে ঝুলিয়ে’ রাখেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টায় জেলা শহরের নতুনহাট মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে নেতারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ন্যাক্কারজনক হামলা মেনে নেওয়া যায় না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবাইত ইবনে হারুন রাফি নাগরিক সংবাদকে বলেন, ইকরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম শেষ করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের মিছিল দেখে গাড়ি রাস্তা সাইট করে দেয়া হয় এবং মিছিলটি যাওয়ার জন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল। তারপরেও জামায়াতের মিছিলে থাকা কিছু নেতাকর্মী আমাদের গাড়িতে বারবার আঘাত করে এবং গাড়ির গ্লাসে লাগানো পোস্টার ছিড়ে ফেলে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে কথা কাটাকাটির মতো ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে রাফি বলেন, নিঃসন্দেহে এটি মিথ্যা কথা এবং মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন,
আমার বাবার রাজনৈতিক ফিল্ড ভালো এবং আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত দেখে তারা এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছেন। আমি মনে করি বাংলাদেশের মানুষ এখন অত্যন্ত সচেতন। এখন মানুষ আর এই ধরনের মিথ্যা গুজবে কান্ দেয় না। জামায়াতে ইসলামীর এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারের আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নুরে আলম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


