ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে ব্যবহৃত সরঞ্জামকে ‘দেশীয় অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আটকের পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বক্তব্য পরিবর্তন করায় প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মেহেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিএম রানা। একই সঙ্গে পুলিশের পেশাগত দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার মোড় এলাকায়। জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দীন খানের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন,মাইক্রোবাস চালক মোনাখালী গ্রামের ইজারুল হকের ছেলে সোহেল রানা, জামায়াত কর্মী কামদেবপুর গ্রামের সাবদার আলীর ছেলে সাহারুল ইসলাম এবং খোকসা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সেলিম রেজা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা সেখানে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেনাবাহিনী তল্লাশি চালায়। পরে খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইক্রোবাসসহ তিনজনকে হেফাজতে নেয়।
তল্লাশিকালে মাইক্রোবাস থেকে চারটি ফোল্ডেবল স্টিক, একটি ইলেকট্রিক শকার, চারটি ওয়াকিটকি, একটি ম্যাকগাইভার প্লাস স্ক্রু-ড্রাইভার, একটি ক্যামেরা ও চার্জার উদ্ধার করা হয়। এসব সামগ্রী নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী পুলিশের এসআই বিএম রানা প্রথমে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ‘দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।’ তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মুখে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলো আসলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সরঞ্জাম। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ‘দেশীয় অস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করার আগে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতিও নেননি।
একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদি উদ্ধারকৃত সামগ্রী সত্যিই দেশীয় অস্ত্র হয়ে থাকে, তবে কেন আটকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি? আর যদি সেগুলো ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জাম হয়, তবে কীভাবে এবং কোন বিবেচনায় সেগুলোকে অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? আটকের পর প্রায় ৮ ঘণ্টা থানায় রাখার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনজনকে জামায়াত নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বক্তব্য পরিবর্তনের দায় ও আটকের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এসআই বিএম রানার কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জামায়াত নেতা ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দীন খান বলেন, যেসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের সমাবেশের প্যান্ডেল নির্মাণ ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখা। সেখানে জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ ইভেন্ট সরঞ্জামকে অস্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর মাধ্যমে মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজউদ্দীন আহমেদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারি বলেন, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জব্দ হওয়া সরঞ্জামগুলোর মধ্যে ওয়াকিটকি ছাড়া বাকি সবই প্যান্ডেল ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়-এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে কারণে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াকিটকি ব্যবহারের বৈধ কাগজপত্র দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পড়ুন- বিএনপির পক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগ নেতাও ভোট চাইছেন!


