কুয়াশার চাদরে আবৃত হয়ে শীত যখন চারপাশে বয়ে বেড়ায়, তখন পিঠা-পুলি আর খেজুর রসের পায়েস দিয়ে তাকে বরণ করে নিতে কত শত আয়োজন করা হয়। কাঁথা-কম্বলের নিচে কন কনে শীতে কাঁপতে থাকা ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে থেকে বয়স্কসহ সবাই এই আয়োজনের সঙ্গী হয়ে থাকেন। এসব উৎসবমুখর হলেও এরইমাঝে কিছু ভয় থেকে যায়। সর্দি-কাশি ও ঠান্ডা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি রোগ হানা করে, কখনো কখনো নাসারন্ধ্র থেকে পানির প্রসবন শুরু হয়।
শীতে খুব সাধারণ কিছু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যা থেকে পরবর্তীতে জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে শুরুর দিকেই যদি সচেতন হওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যায়, তাহলে ভয় কাটিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।
এ ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লালবাগের উদয় ডক্টর কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড–১৯ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার। এ চিকিৎসক শীতকালীন রোগ ও সমস্যার প্রতিকার জানিয়েছেন।
➤ ঠান্ডা ও খুসখুসে কাশি:
শীতের স্নিগ্ধ সকালে ঘাসের ওপর জন্মে থাকা হীরক খণ্ডের মতো ঠান্ডা হিমশীতল শিশির মাড়িয়ে হাঁটতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু এ ভালো লাগাও এক সময় কষ্টের মনে হয়, যখন ঠান্ডা-কাশি আমাদের গ্রাস করে এবং নাসারন্ধ্র থেকে প্রসবন শুরু হয়। এ সমস্যার মূল কারণ বলা চলে হাতের অদৃশ্যমান জীবাণু, যা সাধারণত ভাইরাস ঘটিত।
সমস্যা দূরীকরণের উপায়: নিয়মিত সাবান দিয়ে সঠিক উপায়ে হাত ধুতে হবে। হাতের নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখতে হবে। রুমালের পরিবর্তে টিস্যু ব্যবহার করতে হবে; যাতে একবার ব্যবহার করেই জীবাণুযুক্ত টিস্যু ফেলে দেয়া যায়। খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে খুসখুসে কাশি দূর করার জন্য এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ লবণ দিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে।
➤ হাঁপানি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্ট:
শৈত্যপ্রবাহ হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেশ বাড়িয়ে থাকে। এ জন্য সবসময় সতর্ক থাকতে হবে ও চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে―তীব্র শীতে শ্বাসকষ্টের রোগীদের বাসায় থাকাই উত্তম। অতি প্রয়োজনে নাক-মুখ ঢেকে বের হওয়া উচিত। ধুলাবালি, ধোঁয়া, কার্পেট ও পশমযুক্ত পশুপাখি এড়িয়ে চলা উচিত।
শ্বাসকষ্ট কমানোর ওষুধ: ইনহেলার, নেবুলাইজেশনসহ চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সবসময় হাতের নাগালে রাখতে হবে। যারা বার বার তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগেন, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নিতে হবে।
➤ হৃদরোগ:
বয়স্ক ও হৃদরোগে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শীতে হৃদরোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ হিসেবে বলা হয়, ঠান্ডায় মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্রকে এই উচ্চ রক্তচাপের বিপক্ষে কাজ করতে হয়। তাছাড়া শরীরকে উষ্ণ রাখতেও হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে করণীয়: শীতে শরীরকে উষ্ণ রাখা জরুরি। এ জন্য ঘরের তাপমাত্রা নিম্নে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে রুম হিটার, ইলেকট্রিক কম্বল ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে বের হবার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ শীতবস্ত্র পরিধান করে বের হতে হবে।
➤ হাত-পায়ের রক্ত চলাচলে বাঁধা:
কারো কারো অতিরিক্ত শীতে শরীরের শিরা-উপশিরাগুলো সংকুচিত হয়ে হাত-পায়ের দূরবর্তী স্থানে রক্ত চলাচল বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেনাউড ফেনোমেনন’ বলা হয়। এতে হাত-পায়ের বর্ণ পরিবর্তন হয় এবং তীব্র ব্যথা অনুভব হয়।
এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য হাতমোজা, পা-মোজো ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। নেশাজাতীয় দ্রব্য ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
➤ হাঁটু ও অস্থি সন্ধিতে ব্যথা:
হাড় ও অস্থি সন্ধির ব্যথা এবং হাড় ক্ষয় রোগীদের জন্য শীত কিছুটা কষ্টকরই বটে। কেননা, এ সময় তাদের ব্যথার তীব্রতা বেড়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে দৈনিক হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা শরীর ও মন উভয়ের জন্য উপকারী। যারা সাঁতার পারেন তাদের জন্য এটিই উপযুক্ত ব্যায়াম। অস্থি সন্ধি ও হাড়ে গরম পানির সেঁক নিতে পারেন।
➤ খসখসে ও রক্ষ ত্বক:
আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে শীতে ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। ফালে পা ও ঠোঁট ফাটাসহ কখনও কখনও ফাটল স্থান থেকে রক্তপাতও হয়। এ ক্ষেত্রে শীতে কুসুম গরম পানিতে গোসল করা উচিত। তবে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। বেশি গরম পানি ত্বককে অধিকতর রুক্ষ ও প্রাণহীন করে। দিনে অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে দৈনিক ৭/৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
পড়ুন: খালেদা জিয়াকে ‘হার এক্সেলেন্সি’ সম্বোধন করে ভারতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব
দেখুন: টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স*ন্ত্রাসে চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা
ইম/


