নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ বলেছেন, আমরা কেন্দ্র দখল করবো না, কাউকে কেন্দ্র দখল করতেও দিব না।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা বাজারে গণমিছিল ও গণসংযোগ শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেলে বজরা বাজার মসজিদের সামনে থেকে গণমিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিলটি বজরা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বজরা বাজার ব্রিজের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে ছাইফ উল্লাহ বলেন, একটি দল ভোটকেন্দ্র দখলের স্বপ্ন দেখছে। এটা মামার বাড়ি নয়, এটা আগের পরিস্থিতিও নয়। এটি জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ। এই নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্র দখল করতে দেওয়া হবে না। আমরা নিজেরাও কেন্দ্র দখল করবো না, কাউকেও করতে দেবো না।
তিনি আরও বলেন, এরপরও কেউ দখলের দুঃসাহস দেখালে ভোটার ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। কোনোভাবে ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা হলে লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ১২ তারিখে এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেওয়া হবে না।
নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দাওয়াতি কাজ করতে গিয়ে জামায়াতের মা-বোনেরা বিভিন্ন এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন, মহিলা কর্মীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলন করা হলেও এখনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এসব বন্ধ না হলে আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জাতি তার জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
একটি দল বিভিন্ন কার্ড দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির স্পষ্ট করে বলেছেন- কার্ড নয়, জনগণের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা হবে, কোনো বেকার থাকবে না। শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করা হবে এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে শতভাগ উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো ধরনের দুর্নীতি করা হবে না, কাউকেও করতে দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজি থাকবে না। ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীর জন্য চাঁদামুক্ত ব্যবসা পরিবেশ তৈরি করা হবে। পরিবহন, রিকশা ও বাসসহ কোথাও চাঁদা দিতে হবে না।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির হানিফ মোল্লা, সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন, জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মুজাহিদুল ইসলাম, বজরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মনির হোসেনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন- নবম পে-স্কেলের দাবিতে নেত্রকোনায় সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভ


